সবার জন্য অর্থনৈতিক সম্ভাবনা সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘ফিউচার নেশন প্রোগ্রাম’ শীর্ষক একটি প্রকল্পে যৌথভাবে কাজ করতে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষ (বিডা)।
গতকাল রবিবার এ সংক্রান্ত এ বিজ্ঞপ্তিতে বিডা জানায়, ফিউচার নেশন প্রকল্প সরকার, বেসরকারি খাত ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি নতুন জোট, যা ভবিষ্যতে জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের এজেন্ডাকে ত্বরান্বিত করতে কাজ করবে। জনসংখ্যাকে অর্থনীতির চালিকাশক্তিতে রূপান্তরের মাধ্যমে এই কাজটি করা হবে। দেশের গ-ি পেরিয়ে তারা যাতে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে তার ক্ষেত্র প্রসারিত করা হবে।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিডার প্রধান কার্যালয়ে ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি সুদীপ্ত মুখোপাধ্যায় এবং বিডার মহাপরিচালক মো. জিয়াউল হক নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। তিনি এই অংশীদারত্বমূলক চুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তব্য দেন।
সালমান এফ রহমান বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের কাতারে উত্তরণের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বমূলক কর্মকাণ্ডকে একটি প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। ফিউচার নেশনের মতো জোট কেবল কভিড-১৯ এর প্রভাব থেকে পুনরুদ্ধারে সহযোগিতা করবে না, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব এমনকি ৫ম শিল্প বিপ্লবের জন্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রস্তুত করে গড়ে তুলতেও সাহায্য করবে।
বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ফিউচার নেশন প্রকল্পে বিডার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে যা একটি জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গঠনের লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ শিল্প এবং নতুন কাজের গুরুত্ব বুঝে তরুণ যুবসমাজকে জরুরিভাবে কাজে লাগানোর দিকে আলোকপাত করবে। এ কারণে বিডা এই উদ্যোগে বড় ধরনের সহযোগিতা করার চেষ্টা করবে যা বৈশ্বিক বাজারে দক্ষ শ্রমশক্তি নিয়োগের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গঠনেও অবদান রাখবে।
সুদীপ্ত মুখোপাধ্যায় বলেন, মহামারী পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা বিশেষ করে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান গড়ে তোলার একটি সাধারণ লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশের সরকার, বেসরকারি খাত ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে অংশীদারত্বমূলক এই কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। আমি বিশ্বাস করি নতুন এই মাইলফলক আমাদের একসঙ্গে সম্পদের ব্যবহারে যা করার দরকার তাই করতে উৎসাহী করে তুলবে।
গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসির আজমান বলেন, বাংলাদেশকে একটি উন্নত জাতিতে পরিণত করার অগ্রযাত্রায় যে তরুণরা ভূমিকা রাখতে পারে, সেই তরুণদের দক্ষ মানব সম্পদে পরিণত করতে ফিউচার নেশন প্রকল্প একটি বড় ধরনের সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। বেসরকারি খাতের পক্ষ থেকে এই অগ্রযাত্রায় নেতৃত্ব দিতে পেরে আমরা খুব খুশি। এর মাধ্যমে আমরা তরুণ জনগোষ্ঠীর অপার সম্ভাবনাকে জাগিয়ে তুলতে অবদান রাখতে পারব। বিডার নেতৃত্বে আমরা ইউএনডিপির এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যাব।
আয়োজকরা জানান, বেসরকারি খাতের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কভিড পরবর্তী পুনরুদ্ধার কর্মসূচি জোরদার এবং তরুণ যুবসমাজের জন্য অর্থনৈতিক সম্ভাবনা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিডা এবং ইউএনডিপি ফিউচার নেশন প্রকল্পে একসঙ্গে কাজ করবে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিডা, ইউএনডিপি এবং গ্রামীণফোনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।