পুলিশকে সততার সঙ্গে কাজ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুলিশকে জনগণের সেবক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘পুলিশকে জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে হবে। বাংলাদেশ পুলিশ মানুষের আস্থা অর্জন করবে এটাই আমরা চাই। সততার সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের কাজ করে যেতে হবে।’ 

গতকাল রবিবার সকালে পুলিশের দুটি মানবিক উদ্যোগ- দেশের প্রতিটি থানায় নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী সার্ভিস ডেস্ক উদ্বোধন এবং মুজিববর্ষ উপলক্ষে গৃহহীন মানুষের জন্য পুলিশের আবাসন প্রকল্প উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তিনি।

রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আখতার হোসেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সার্ভিস ডেস্ক এবং গৃহ নির্মাণের ওপর একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে গৃহহীন পরিবারের জন্য পুলিশের নির্মিত ৪০০টি ঘর হস্তান্তর করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশের কাছে গেলে মানুষ ন্যায়বিচার পাবে এ আত্মবিশ্বাস মানুষের মধ্যে গড়ে তুলতে হবে।’ থানায় সার্ভিস ডেস্কের মাধ্যমে অন্যায়ের প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য তিনি পুলিশকে ধন্যবাদ জানান। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তৃণমূল থেকে উন্নয়ন শুরু করেছি। সর্বস্তরের মানুষ যেন উন্নয়নের ছোঁয়া পায় সে লক্ষ্যে আমাদের সরকার কাজ করে যাচ্ছে। মুজিববর্ষে আমাদের লক্ষ্য ছিল, যে কাজ জাতির পিতা গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প দিয়ে শুরু করেছিলেন আমরা আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে কাজটা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। বাংলাদেশের একজন মানুষও ভূমিহীন থাকবে না, গৃহহীন থাকবে না। এর সুফল সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে। গৃহহীন মানুষের জন্য ঘর করে দেওয়ার চেয়ে বড় কিছু হতে পারে না।’ তিনি বলেন, ‘আপনারা জনগণের পুলিশ। আপনারা জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন, জনগণের পাশেই থাকবেন এটাই আমাদের লক্ষ্য।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘পুলিশের আধুনিকায়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। সার্ভিস ডেস্কে যারা কাজ করবেন তাদের প্রয়োজনে বিদেশে প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করা হবে। যে বাহিনী জনগণের বাহিনী তাকে আমরা সেভাবেই গড়ে তুলব।’

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, মুজিববর্ষকে কেন্দ্র করে পুলিশ দেশের প্রতিটি থানায় নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী সার্ভিস ডেস্ক চালুর মাধ্যমে দেশের জনগণের কল্যাণে আরও একটি মহতি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, বাংলাদেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না। এ লক্ষ্য পূরণে সরকার ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য গৃহনির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে পুলিশ দেশের প্রতিটি থানা এলাকায় এই প্রকল্প গ্রহণ করে। প্রকল্পের আওতায় ৫১৯টি থানা এলাকায় ৫২০টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।

সিনিয়র সচিব মো. আখতার হোসেন বলেন, দেশের প্রতিটি থানায় নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের জন্য সার্ভিস ডেস্ক স্থাপন এবং গৃহহীনদের জন্য ঘর দেওয়া পুলিশের একটি যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত। বঙ্গবন্ধু গণমানুষের নেতা ছিলেন। তার রাজনৈতিক দর্শন ছিল, মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর মাধ্যমে ‘সোনার বাংলা’ গড়ে তোলা। পুলিশ  দেশের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় অনন্য অবদান রাখছে। করোনাকালে পুলিশের ভূমিকা বাঙালি জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

আইজিপি বেনজীর আহমেদ বলেন, জাতির পিতা স্বমহিমায় সমুজ্জ্বল আত্মপ্রত্যয়ী এক ক্ষণজন্মা মহাপুরুষ, যিনি নিজ কর্মের উজ্জ্বল দীপ্তি ছড়িয়ে সারা বিশ্বে এক অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছেন। ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ বেতার ও টেলিভিশন ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘শ্মশান বাংলাকে আমরা সোনার বাংলা গড়ে তুলতে চাই। আগামী দিনের মায়েরা হাসবে, শিশুরা খেলবে। আমরা শোষণমুক্ত সমাজ গড়ে তুলব’। বঙ্গবন্ধুর এ দর্শন ও চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে পুলিশ মুজিববর্ষে দেশের প্রতিটি থানায় স্থাপন করেছে নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী সার্ভিস ডেস্ক। তাদের সুরক্ষায় দেশে প্রণীত সব আইন ও নীতিমালার আলোকে মুজিববর্ষের সূচনালগ্ন ২০২০ সাল থেকে পরীক্ষামূলকভাবে এ ডেস্কের কার্যক্রম শুরু করা হয়। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত সারা দেশে ৩ লাখ ৬৩ হাজার ১৬৮ জন সেবাগ্রহীতাকে সেবা দেওয়া হয়েছে। প্রতি মাসে গড়ে ১৩ হাজার ৯৬৮ জন এবং প্রতিদিন ৪৬৫ জন সেবাগ্রহীতা এ ডেস্ক  থেকে সেবা নিয়েছেন।

আইজিপি বলেন, ‘নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীরা আমাদের সমাজের অভিন্ন অংশীজন। তাদের উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার কোনো বিকল্প নেই।’

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ লাইন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম রেঞ্জে উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আনোয়ার হোসেন, রংপুরের পীরগঞ্জ থানা  থেকে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য, মাগুরা সদর থানা থেকে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি ড. খ. মুহিদ উদ্দিন।

সার্ভিস ডেস্কে কর্মরত নারী পুলিশ সদস্য এবং সার্ভিস ডেস্ক থেকে সেবা পাওয়া সুবিধাভোগী এবং ঘর পাওয়া উপকারভোগীরা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। অতিরিক্ত আইজিপি ড. মো. মইনুর রহমান চৌধুরী ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।