চিকিৎসা না পেয়ে মায়ের মৃত্যুর অভিযোগ করে আটক দুই ছেলে

খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে চিকিৎসকদের অবহেলায় পিয়ারুন্নেছার (৫৫) মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার রাত ৩টার দিকে হাসপাতালের তিনতলার ১১-১২ নম্বর ওয়ার্ডে তার মৃত্যু হয়। পিয়ারুন্নেছা নগরীর দৌলতপুরের পাবলা কারিকরপাড়ার মাওলানা আবদুর রাজ্জাকের (৬৭) স্ত্রী।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করলে ইন্টার্ন চিকিৎসক কামরুল হাসানের সঙ্গে পিয়ারুন্নেছার ছেলে মো. মোস্তাকিমের বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। এক পর্যায়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা পুলিশ ডেকে মৃতের অন্য দুই ছেলেÑ মো. তরিকুল ইসলাম কাবির ও সাদ্দাম হোসেনকে পুলিশে দেন।

মাওলানা আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমার স্ত্রীর বুকে ব্যথা ও প্রস্রাব-পায়খানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গত শুক্রবার রাতে মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১১-১২ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাতে তার অবস্থা গুরুতর হলে আমার ছেলে চিকিৎসককে ডাকতে গেলেও তারা না এসে রোগী নিয়ে আসতে বলেন। ছেলে ‘মা মোটা মানুষ, আনা সম্ভব নয়’ জানালে কাগজপত্র আনতে বলেন। কাগজপত্র দেখে ইন্টার্ন চিকিৎসক বলেন, সব ঠিক আছে। আমাদের যাওয়া লাগবে না। কিন্তু রাতে ছটফট করতে করতে আমার স্ত্রীর মৃত্যু হয়। মায়ের এমন মৃত্যু আমার ছেলে মোস্তাকিম মেনে নিতে পারেনি। সে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে জানতে চান, কেন তারা রোগীর কাছে আসেননি? এ নিয়ে তাদের কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। আমি জানতে পেরে গিয়ে চিকিৎসকের হাত-পা ধরে মাফ চাই। এ সময় একজন ইনটার্ন চিকিৎসক আমাকেও আঘাত করেন।’

তিনি বলেন, ‘পরে পুলিশ ডেকে চিকিৎসকরা আমার অন্য দুই ছেলে মো. তরিকুল ইসলাম কাবির ও সাদ্দাম হোসেনকে পুলিশে দেন। তারা আমার স্ত্রীর মরদেহও আটকে রাখেন। স্থানীয় কাউন্সিলর শামছুদ্দিন আহমাদ প্রিন্সসহ গণ্যমান্যরা গেলে তাদের সঙ্গে বাজে ব্যবহার করেন।’

এ বিষয়ে খুমেক হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. সুহাস রঞ্জন হালদার বলেন, ‘মরদেহ একটি প্রক্রিয়া মেনে ছাড়তে হয়। সেটিই করা হয়েছে, মরদেহ আটকানোর অভিযোগ সত্য নয়। রোগীর স্বজনরা লাশ না নেওয়ায় পুলিশের কাছে দেওয়া হয়।’

তিনি বলেন, ‘চিকিৎসকরা রোগী না দেখে থাকলে ব্যবস্থাপত্র দিলেন কীভাবে? অবহেলায় মৃত্যুর অভিযোগ ভিত্তিহীন। তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য পুলিশ রোগীর দুই স্বজনকে নিয়ে গেছে। আমরা কোনো জিডি বা মামলা করিনি।’

সোনাডাঙ্গা থানার ওসি মমতাজুল হক জানান, রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় স্বজনরা হাসপাতালে ভাঙচুর চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ দুজনকে থানায় নিয়ে আসে এবং বিকেলে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এদিকে আটকের খবরে গতকাল বেলা ৩টার দিকে নগরীর নতুন রাস্তা মোড় এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে রোগীর স্বজন ও স্থানীয়রা। এতে খুলনা-যশোর রোডে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল।

খুলনা মহানগর ইসলামী আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক শেখ নাসির উদ্দীন বলেন, ‘তারিকুল ইসলাম কাবির আমাদের সাবেক নগর প্রচার সম্পাদক। তার আটকের ঘটনায় স্থানীয়রা সড়ক অবরোধ করেন। পরে ছেড়ে দেওয়া হলে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। মরদেহ নিয়ে বাড়িতে দাফন করা হয়েছে।’