স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন

পাঁচ বছরে দেড় লাখ শিশুর জন্ম রোহিঙ্গা ক্যাম্পে

পাঁচ বছর আগে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নিপীড়নের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা নাগরিক। বিপুল এক জনগোষ্ঠী যুক্ত হয় কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় আরও আগে থেকে আসা প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গার সঙ্গে। ২০১৭ সালের ওই রোহিঙ্গা ঢলের পরে বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা নানা ধরনের ‘মানবিক’ সহায়তা দিয়েছে তাদের। তবে বছর দুই পরেই কমতে শুরু করে তাদের তহবিলের আকার। বিপুলসংখ্যক মানুষের দায়িত্ব চাপ বাড়াতে শুরু করে সরকারের কাঁধে। দিন দিন চাপ বাড়ছে। রোহিঙ্গা শিবিরের শিশু জন্মহার সেই চাপ আরও বাড়াচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে বছরে ৩৫ হাজার করে নতুন শিশুর জন্ম হচ্ছে। গত পাঁচ বছরের রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় জন্ম নিয়েছে দেড় লাখের বেশি শিশু!

গতকাল রবিবার দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ‘বাংলাদেশে আসা মিয়ানমারের নাগরিকদের সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কিত’ জাতীয় কমিটির চতুর্থ সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, ক্যাম্পে জন্মহার বেড়ে যাওয়ায় আমাদের স্বাস্থ্য বিভাগ ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে বলবÑ তারা যাতে সবাইকে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করে। সেজন্য আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে যাচ্ছি। এখানে যেসব রোহিঙ্গা এসেছে, প্রতি বছর তাদের সংখ্যা ৩৫ হাজার করে বেড়ে যাচ্ছে, পাঁচ বছর হয়েছে তারা এসেছেন। এতে দেড় লাখ কিন্তু অটোমেটিক বেড়ে গেছে। সেখানেও আমাদের একটি আশঙ্কার জায়গা। সেটা যাতে আমরা ট্যাকেল দিতে পারি, সেজন্য এসব ব্যবস্থার কথা আমরা চিন্তা-ভাবনা করছি। 

আসাদুজ্জামান খান আরও বলেন, আমরা দেখছি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বয়সভিত্তিক রেশন না দিয়ে ব্যক্তি হিসেবে দেওয়া হয়। এক দিনের শিশুকে যে রেশন দেওয়া হয়, একজন প্রাপ্ত বয়স্ককেও সেই রেশন দেওয়া হচ্ছে। আমরা বলেছি, এটা বয়সভিত্তিক যেন দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরে এবং আশপাশে কেউ যাতে মাদক ব্যবসা করতে না পারে সেই জন্য জোরদার ব্যবস্থা করছি। নাফ নদীতে মাদক চোরাচালান রুখে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে যাচ্ছে। আমরা এ জায়গায় কঠোর হতে যাচ্ছি। আমরা যেটা অনুমান করছি, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাদক স্টোর করা আছে। এর মধ্যে আমরা কিছু ধরেও ফেলেছি। এর সঙ্গে যারা জড়িত তারাও ধরা পড়বে।

ইদানীং ছিনতাই বেড়ে গেছে, এটা বাড়ার কারণ কীÑজানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের পুলিশ যথাযথ ভূমিকা পালনের জন্য ছিনতাই আগের তুলনায় কমেছে। ১০ বছর আগের কথা চিন্তা করে তুলনা করলে, এটা (ছিনতাই) এখন জিরো। কিন্তু মাঝে মাঝে কয়েকটি ঘটনার কারণে আপনারা উদ্বিগ্ন হচ্ছেন। আমার জানামতে, সবই ধরা পড়েছে। আমাদের পুলিশ অনেক অ্যাকটিভ। যারা ছিনতাই করুক পার পাবে না।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান, মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা, জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আখতার হোসেন, পুলিশ মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদ, সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব মো. মোকাব্বির হোসেনসহ কমিটির অন্য সদস্যরা।