বিদেশে মুসলিমপ্রধান দেশগুলোতে খাদ্যপণ্য রপ্তানিতে সহায়তা দিতে পণ্যের মান সনদের পাশাপাশি ‘হালাল’ সনদ দেওয়াও শুরু করেছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। গতকাল থেকে বিএসটিআই এ সনদ দেওয়া শুরু করেছে। আর দেশের প্রথম কোম্পানি হিসেবে বিএসটিআইর হালাল সনদ পেয়েছে হত্যা মামলার আসামি ও বিতর্কিত ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাইর প্রতিষ্ঠান অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ।
গতকাল সোমবার অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের তিনটি প্রতিষ্ঠানের নয়টি পণ্যের অনুকূলে ‘হালাল সার্টিফিকেট’ দেওয়া হয় বলে বিএসটিআইএ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।
৪৩ বছরের পুরনো অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের শুরু হয়েছিল ব্যাটারি উৎপাদনের মধ্য দিয়ে। সে সময় কোম্পানিটির নাম ছিল বেঙ্গল কার্বাইড লিমিটেড। পরবর্তীতে পণ্য বহুমুখীকরণের অংশ হিসেবে ১৯৯৬ সালে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ বেকারি ও খাদ্যপণ্যের ব্যবসায় জড়িত হয় এবং এটিই কোম্পানির প্রধান আয়ের উৎসে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে কোম্পানিটির মোট আয়ের ৯৫ শতাংশের বেশি আসে বেকারি ও খাদ্যপণ্য বিক্রি থেকে। অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের অনেকগুলো খাদ্যপণ্য দেশে বেশ পরিচিত। এর মধ্যে রয়েছে এনার্জি প্লাস বিস্কুট, টিপ বিস্কুট, ডায়াজেস্টিভ বিস্কুট, পালস চকলেট। অর্ধশতাধিক ধরনের বিস্কুট, কুকিজসহ খাদ্যপণ্য তৈরির পাশাপাশি অলিম্পিক ব্যাটারিও এই কোম্পানির বহুল বিক্রীত পণ্য।
বর্তমানে বেকারি পণ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কোম্পানি অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, যেটি ১৯৮৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। বর্তমানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কোম্পানিটির বাজার মূলধনের পরিমাণ ২ হাজার ৭০১ কোটি টাকা। ২০২০-২১ হিসাব বছরে কোম্পানিটি পণ্য বিক্রি থেকে ১ হাজার ৮০৩ কোটি টাকা আয় করেছে। এ সময় ২৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকার বেকারি পণ্য রপ্তানি করেছে কোম্পানিটি। আর ব্যাটারি ইউনিট থেকে আয় হয়েছে ৪০ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।
অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদে এখন রয়েছেন আগা খান ফাউন্ডেশনের সাবেক চেয়ারম্যান মুবারক আলী। কোম্পানির পরিচালক আজিজ মোহাম্মদ ভাই চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলার আসামি হওয়ার পর বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন। কোম্পানিটির উদ্যোক্তা-পরিচালক আজিজ মোহাম্মদ ভাই এখন বিদেশে পলাতক থাকা অবস্থাতেই অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ বিক্রির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু কাক্সিক্ষত মূল্য না পাওয়া ও প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে কোম্পানিটির বিক্রির প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি নেই।
হালাল সনদ আনুষ্ঠানিকভাবে বিতরণ কার্যক্রম শুরুর কথা জানিয়ে বিএসটিআই মহাপরিচালক মো. নজরুল আনোয়ার বলেন, হালাল সংক্রান্ত তিনটি আন্তর্জাতিক মানকে বাংলাদেশ মান হিসেবে গ্রহণ করে সে অনুসারে সনদ দেওয়া হচ্ছে। ইসলামী সম্মেলন সংস্থার (ওআইসি) অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর হালাল মানসনদবিষয়ক সংস্থা (এসএমআইআইসি) স্মিকর সদস্য হিসেবে এবং দেশীয় পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণের জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
হালাল পণ্য বিভিন্ন দেশেই প্রচলিত। ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী যে পণ্য গ্রহণে মুসলমানদের বাধা নেই, সেই পণ্যই হালাল হিসেবে স্বীকৃত।
বিএসটিআইর হালাল সনদ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ এবং মাদ্রাসা-ই-আলিয়া, কওমি মাদ্রাসার প্রতিনিধিকে যুক্ত করা হয়। এছাড়া যুক্ত রয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, মৎস্য অধিদপ্তর, জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর, এফবিসিসিআই, বিসিআই, ডিসিসিআই, ক্যাব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও ফার্মেসি বিভাগ।