অরক্ষিত রেল ক্রসিং

ট্রেনের ধাক্কায় এক পরিবারের তিন প্রজন্ম শেষ

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় অরক্ষিত একটি লেভেল ক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় অটোরিকশা আরোহী একই পরিবারের তিনজনের প্রাণ গেছে। গতকাল সোমবার দুপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের কালিহাতীর হাতিয়া এলাকার রেলক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলে দুজনের মৃত্যু হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান আরও একজন।

টাঙ্গাইল রেলওয়ে পুলিশের এসআই সাইফুল ইসলাম জানান, নিহতরা হলেন অটোচালক ঘাটাইল উপজেলার কদমতলীর গারট্ট গ্রামের তায়েবুল হোসেন (৫৫), তার মেয়ে তাহমিনা (২৫) ও দুই বছর বয়সী নাতি তাওহীদ।

এলেঙ্গা ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের টিম লিডার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, নিজের ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক নিয়ে তায়েবুল হোসেন ঘাটাইল থেকে কালিহাতীর হাতিয়া মেয়ের শ^শুরবাড়ি যাচ্ছিলেন। হাতিয়া রেলক্রসিং এলাকায় এলে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা জামালপুর এক্সপ্রেসের ধাক্কায় ইজিবাইক দুমড়েমুচড়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অটোরিকশাটি যখন অরক্ষিত রেলক্রসিং পার হচ্ছিল, তখন চালক ট্রেনটি দেখতে পাননি। জামালপুর এক্সপ্রেস ট্রেনটি অটোরিকশাটিকে ৩০০ মিটার দূরে নিয়ে ফেলে।

এদিকে ঘটনার পর সরেজমিনে দেখা যায়, শিশু তাওহীদের লাশ কোলে নিয়ে বিলাপ করছেন দাদি রেজিয়া বেগম। তিনি বলেন, ‘কয়েক দিন আগে তাহমিনা তার ছেলে তাওহীদকে নিয়ে ঘাটাইলে বাবার বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল। আজ (সোমবার) তাদের বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু ট্রেনের ধাক্কায় তারা চিরবিদায় নিল।

রেজিয়া বলেন, ছোট্ট তাওহীদকে ঘটনাস্থল থেকে বাড়িতে নিতে চেয়েছি কিন্তু পুলিশ নিতে দেয়নি। এইটুকু শিশুর কী তদন্ত করবে?’

এএসআই সাইফুল ইসলাম বলেন, মরদেহগুলো আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।