দেশ রূপান্তরে প্রতিবেদন, রিটের শুনানি আজ

বিদেশগামী শ্রমিকদের নিবন্ধনে ‘আমি প্রবাসী’ অ্যাপসের মাধ্যমে অর্থ আদায় ও অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করা হয়েছে। বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চে আবেদনটি উপস্থাপন করা হলে আদালত শুনানির জন্য আজ বুধবার দিন নির্ধারণ করে। দেশ রূপান্তরসহ তিনটি পত্রিকার প্রতিবেদন যুক্ত করে সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ওবায়দুল ইসলামের পক্ষে আবেদনটি করা হয়।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী আজিজুল বাশার। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।

আইনজীবী আজিজুল বাশার দেশ রূপান্তরকে জানান, দেশ রূপান্তরসহ তিনটি পত্রিকার প্রতিবেদন যুক্ত করে আবেদনটি করা হয়েছে। আবেদনে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এবং দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) বিবাদী করা হয়েছে। রিটে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএফআইইউকে পক্ষভুক্ত করে একটি সম্পূরক আবেদনের মাধ্যমে শুনানি করতে বলেছে হাইকোর্ট।

গত বছর ৩০ আগস্ট দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকায় ‘রাজস্বের ভাগ মন্ত্রীর ভাগ্নের পকেটে’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়, একজন শ্রমিককে বিদেশ যেতে হলে ৩০০ টাকা দিয়ে নিবন্ধন করতে হয়। ‘আমি প্রবাসী’ নামে একটি অ্যাপসের মাধ্যমে নিবন্ধনের টাকা নেয় প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)। অ্যাপসটি তৈরি করার পর চার মাসে প্রায় আড়াই লাখ বিদেশগামী শ্রমিকের কাছ থেকে সাড়ে ৭ কোটি টাকা আদায় করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী এ অর্থ সরাসরি সরকারি কোষাগারে জমা হওয়ার কথা থাকলেও আড়াই কোটি টাকা জমা হয় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নামে। অ্যাপস তৈরির নামে একটি চুক্তির মাধ্যমে এ অর্থ নিয়েছে থ্যান সিস্টেম নামে একটি প্রতিষ্ঠান। চুক্তি অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে প্রতিষ্ঠানটির পকেটে যাবে সাড়ে ৩৭ কোটি টাকা। বেসরকারি এ প্রতিষ্ঠানের মালিক প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদের ভাগ্নে নামির আহমেদ।

ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চলতি (গত বছর) বছরের ৮ মে থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় আড়াই লাখ লোক এ অ্যাপসের মাধ্যমে নিবন্ধন করেছে। সেখানে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৩০০ টাকা করে মোট ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা নিবন্ধন ফি হিসেবে পেলেও সরকারের কোষাগারে জমা হয়েছে ৫ কোটি টাকা। বাকি ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা নিয়েছে নামিরের প্রতিষ্ঠান। চুক্তি অনুযায়ী পাঁচ বছরে এ প্রতিষ্ঠানটি মোট সাড়ে ৩৭ কোটি টাকা নেবে। যদিও জেলা পর্যায়ে বিএমইটির ৪২টি ডেমো অফিস রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংযুক্ত তহবিলের পরিবর্তে রাজস্বের এ অর্থ জমা হচ্ছে একটি বেসরকারি ব্যাংকে। এটি পিপিআর ২০০৮, সরকারি অর্থ ও বাজেট ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৯-এর ধারা ৭ এবং ট্রেজারি রুলসের রুল-৩ ও ৭ (১)-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে কর্মকর্তারা বলছেন। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের রাজস্ব ভাগাভাগির আইনগত কোনো সুযোগ নেই। এভাবে চলতে থাকলে একদিকে সরকার রাজস্ব বঞ্চিত হবে, অন্যদিকে বিএমইটি কার্যত অচল হয়ে যাবে।

আইনজীবী আজিজুল বাশার বলেন, ‘প্রবাসীকল্যাণ আইনের ১৯ ধারায় বলা আছে নিবন্ধনের বিষয়ে একটি বিধিমালা করতে হবে। বিধিমালা না করে এভাবে কারও সঙ্গে চুক্তি করা আইনবহির্ভূত। রাজস্ব হিসেবে যা আদায় হবে সেগুলো বাধ্যতামূলকভাবে সংযুক্ত তহবিলে চলে যাবে এবং সরকারের কোষাগারে জমা হবে। এটাই নিয়ম ও আইন। কিন্তু এ ক্ষেত্রে অনিয়মের মাধ্যমে এটি করা হচ্ছে এবং এটি এক ধরনের দুর্নীতি বলে আমাদের কাছে মনে হয়েছে। হাইকোর্ট বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন। আমরা শুনানিতে বিস্তারিত তুলে ধরব।’