বাংলা নববর্ষ বরণের অনুষ্ঠানে কোনো হামলার আশঙ্কা না থাকলেও দেশে জঙ্গি তৎপরতা বেড়েছে বলে বন্ধু রাষ্ট্রগুলো জানিয়েছে। এ বিষয়টি মাথায় রেখে পহেলা বৈশাখ বরণ অনুষ্ঠানের নিরাপত্তাব্যবস্থা সাজানো হয়েছে। যার অংশ হিসেবে এবার রমনার অনুষ্ঠান ঘিরে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রমনার বটমূলে নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম। রোজার কারণে এবার পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান বেলা ২টার মধ্যে শেষ করা হবে বলেও জানান তিনি। এ সময় ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ডিএমপির কমিশনার বলেন, ‘২০০১ সালের ঘটনাকে মাথায় রেখে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে; যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া যায়। কেউ আক্রান্ত হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়। কোন রাস্তা দিয়ে কীভাবে নেওয়া হবে, সেটার জন্য আলাদা দল প্রস্তুত থাকবে।’
সম্প্রতি কিছু বন্ধুরাষ্ট্র জঙ্গিদের ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘উপমহাদেশে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে জঙ্গি তৎপরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে ধারণা করছে ওই রাষ্ট্রগুলো। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়েও কিছু রেডিক্যালাইজড সংগঠনের তৎপরতা লক্ষ করছি। সে কারণেই বাড়তি নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হবে। যেহেতু নিিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা নিচ্ছি, কোনো ঘটনাই উড়িয়ে দিচ্ছি না। প্ল্যান করে একটি ছুরি বা ব্লেড নিয়েও কেউ হামলা করতে পারে। সুতরাং সব বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে পুলিশ।’
বাংলা নববর্ষ বরণের অনুষ্ঠানে অন্যান্য বছর থেকে এবার একটু ভিন্নতা থাকবে উল্লেখ করে রাজধানীর পুলিশপ্রধান বলেন, ‘মেলায় পান্তা-ইলিশ ও খাবারের দোকান থাকবে না। অনুষ্ঠানটি সীমিত সময়ের মধ্যে শেষ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে; যাতে মানুষ এখান থেকে বের হয়ে খুব সহজে বাড়ি ফিরে ইফতার করতে পারে।’
পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান উপলক্ষে রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, টিএসসি, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়সহ পুরো এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট থাকবে বলে জানান ডিএমপি কমিশনার। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক মানুষকে তল্লাশির ভেতর দিয়ে প্রবেশ করতে হবে। এসব এলাকায় সব যানবাহন বন্ধ থাকবে। বোম ডিসপোজাল ইউনিট, সোয়াত ও ডগ স্কোয়াডের পাশাপাশি রমনার লেকে নৌ-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল মোতায়েন থাকবে। পহেলা বৈশাখের আগেই পুরো এলাকা সার্চ করা হবে। পুরো চত্বর সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। বিভিন্ন স্থানে ওয়াচ টাওয়ারও থাকবে।’
মঙ্গল শোভাযাত্রায় যোগ দিতে হলে মাঝপথে যোগ দেওয়া যাবে না জানিয়ে শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘পহেলা বৈশাখের বিশেষ আয়োজন মঙ্গল শোভাযাত্রা। এই শোভাযাত্রায় অংশ নিতে হলে আগে চেকিং হয়ে প্রবেশ করতে হবে। মাঝ রাস্তায় চাইলেই কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। কেউ প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশের সদস্যরা কঠোর আচরণ করতে পারে। বেলা ১১টার মধ্যে ছায়ানটের আয়োজন শেষ করতে হবে। আর দুপুর ২টার মধ্যে রমনা এলাকায় মেলা গুটিয়ে ফেলতে হবে। ১টার পরে প্রবেশের সব গেট বন্ধ করে দেওয়া হবে।’
অনুষ্ঠানস্থলে ছোট শিশুদের সঙ্গে না আনার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শিশুদের না আনার অনুরোধ করছি, কারণ এসব স্থানে খাবারের কোনো দোকান থাকবে না। মুখোশ পরে আসা যাবে না। উচ্চ শব্দ তৈরি করে এমন বাদ্যযন্ত্রও আনা যাবে না।’
ইভ টিজিং প্রতিরোধে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানস্থলগুলোতে সাদাপোশাকে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান নেবেন বলে জানান ডিএমপি কমিশনার। তিনি বলেন, ‘যেখানে অনেক মানুষ একত্র হয়, সেখানে নারীরা ইভ টিজিংয়ের শিকার হন। আমাদের মায়েরা, বোনেরা, সন্তানরা ইভ টিজিং ও খারাপ আচরণের শিকার হন। সেটি চিহ্নিত করতে আমাদের সাদাপোশাকে উল্লেখযোগ্য সদস্য সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে থাকবে।’