মামলার ভয় দেখিয়ে দুই যুবকের কাছে ১২ হাজার টাকা নিল পুলিশ

গাজীপুরে মামলার ভয় দেখিয়ে মোটরসাইকেলসহ দুই বন্ধুকে আটকে রেখে তাদের বাবা-মার কাছ থেকে ১২ হাজার ৮০০ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত ওই পুলিশ কর্মকর্তার নাম শাহাদাৎ হোসেন। তিনি গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বাসন থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হিসেবে কর্মরত আছেন।

এ সময় তার দুই সহযোগী কনস্টেবল মো. মিন্টু ও মো. নোমান ঘটনাস্থলে ছিলেন।

ওই দুই বন্ধু ও তাদের পরিবারের সদস্যরা জানান, গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মধ্যপাড়া ইউনিয়নের নস্করচালা গ্রামের মনির হোসেন ও আলফাজ হোসেন নামের দুই বন্ধু একটি নতুন মোটরসাইকেল নিয়ে গাজীপুরের মোল্লাপাড়া এলাকায় সহপাঠী বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে যান।

ফেরার পথে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের নাওজোড় এলাকায় উড়ালসড়কের পাশে পৌঁছালে বাসন থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শাহাদাৎ হোসেন, কনস্টেবল নোমান ও মিন্টু তাদের গতিরোধ করেন।

পরে তারা তাদের মোটরসাইকেলের কাগজপত্র যাচাইয়ের নামে তাদের তল্লাশিসহ নানাভাবে হয়রানি ও মামলা দিয়ে গ্রেপ্তারের ভয়ভীতি দেখান।

দুই কনস্টেবল তাদের পকেটে তল্লাশি করে দুজনের কাছ থেকে ৬ হাজার ৮০০ টাকা নিয়ে নেন। তাদের বাড়িতে খবর দিয়ে আরও টাকা আনতে বলেন। ছেলেদের আটক করার খবর পেয়ে রাতেই মনির ও আলফাজের বাবা সেখানে ছুটে যান। পরে পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে আরও ৬ হাজার টাকা দিলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

আলফাজ ও মনির জানান, নতুন একটি মোটরসাইকেল নিয়ে বেড়াতে যান তারা। মোটরসাইকেল কেনার রশিদও তাদের সঙ্গে ছিল। সেটি দেখালেও পুলিশ নানাভাবে ভয়ভীতি দেখায়। পরে ১২ হাজার ৮০০ টাকা দিয়ে দিলে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।

এ ব্যাপারে শুক্রবার রাত ৯টার দিকে অভিযুক্ত এএসআই শাহাদাৎ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে এ বিষয়ে তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি। 

বাসন থানার ওসি মালেক খসরু খান বলেন, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটনের উপ-কমিশনার (অপরাধ) জাকির হাসান বলেন, ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।