বাইডেনের দূত ঢাকায়

জানতে চাইলেন ধর্মীয় স্বাধীনতা পরিস্থিতি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক বিশেষ দূত রাশাদ হোসাইন চার দিনের সফরে গতকাল রবিবার ঢাকায় এসেছেন। ঢাকা সফরের প্রথম দিনেই বাংলাদেশের হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে তাদের কার্যালয়ে মতবিনিময় করেন তিনি। এ সময় বাংলাদেশের বিদ্যমান ধর্মীয় স্বাধীনতা পরিস্থিতি সম্পর্কে ঐক্য পরিষদ নেতাদের কাছে জানতে চেয়েছেন রাশাদ হোসাইন।

গতকাল হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রায় ঘণ্টাব্যাপী ওই বৈঠকে রাশাদ হোসাইনকে বাংলাদেশের ধর্মীয় স্বাধীনতা সম্পর্কে ব্রিফ করেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতারা। ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত বলেন, ক্রমবর্ধমান সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদী তৎপরতা বাংলাদেশের ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘু ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে অস্তিত্বের সংকটে ফেলেছে। ভবিষ্যতের নির্বাচনী পরিস্থিতি তাদের শঙ্কাগ্রস্ত করেও তুলছে।

রাশাদ হোসাইন বলেন, আমি ও আমার পরিবার ভারতের বিহার থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছি এবং নাগরিকত্ব পেয়েছি। সেখানকার সংবিধান ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়টিকে সে দেশের সব নাগরিকের জন্য সমান অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করে বিধায় আমি আজ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কর্র্তৃক মনোনীত হয়ে এ জায়গায় আসতে পেরেছি। সংবিধানের একটি মৌল উদ্দেশ্য হলো সংখ্যালঘুদের অধিকার সুনিশ্চিত করা।

সমাজের মনোজাগতিক বিষয়ের পরিবর্তন শুধু সরকারের একার নয়, সুশীল সমাজকেও এ ব্যাপারে এগিয়ে আসতে হবে। সারা বিশ্বে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়নের মতো ঘটনা ঘটছে। মানবাধিকার লঙ্ঘন সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র অবহিত রয়েছে এবং পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে।

রাশাদ হোসাইন চীনে মুসলমানদের নিপীড়ন এবং মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর অত্যাচারের বিষয়গুলোও উল্লেখ করেন। এ অবস্থার অবসানে বিশ্বে গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষ চেতনার বিকাশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টা চলমান থাকবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক বিশেষ দূত রাশাদ হোসাইনের সঙ্গে মতবিনিময়ে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত পিটার হাস। তিনি ঐক্য পরিষদের নেতাদের সঙ্গে ভবিষ্যতেও যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে বলে জানান।

মতবিনিময়ে অংশ নেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ঊষাতন তালুকদার, নিমচন্দ্র ভৌমিক, নির্মল রোজারিও, দীপেন চ্যাটার্জি, অশোক বড়–য়া, মণীন্দ্র কুমার নাথ ও নির্মল চ্যাটার্জি।