বিচারক স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর মামলার আবেদন

রংপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দেবাংশু কুমার সরকারের বিরুদ্ধে যৌতুক না পেয়ে হত্যাচেষ্টা ও গুরুতর জখমের অভিযোগ এনে মামলার আবেদন করেছেন তার স্ত্রী হৃদিতা সরকার। আবেদনে দেবাংশু কুমারের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বিয়ে করারও অভিযোগ করেছেন পেশায় চিকিৎসক হৃদিতা সরকার।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে রংপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত-২-এর বিচারক মো. রোকনুজ্জামানের আদালতে আবেদনটি করেন হৃদিতা সরকার। আগামী বৃহস্পতিবার আবেদনের ওপর শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) খন্দকার রফিক হাসনাইন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আবেদনে ওই বিচারক ছাড়াও তার বাবা সুধাংশু কুমার সরকার (৬০), ফুপাতো ভাই নিলয় দে সরকার (২৭) ও চাচা রঞ্জন সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে।

আদালতে করা আবেদন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার হালুয়াঘাট পূর্ব বাজার এলাকার সুধাংশু কুমার সরকার চন্দনের ছেলে দেবাংশু কুমার সরকারের সঙ্গে একই উপজেলার উত্তর খয়রাকুড়ি গ্রামের নারায়ণ সরকারের মেয়ে হৃদিতা সরকারের বিয়ে হয়। বিয়ের দিনই ৩০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি নিয়ে বিত-া হয়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় হিন্দু আইনে বিবাহ সম্পন্ন হয়। কনের বাবা ৫০ ভরি স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ২৫ লাখ টাকার মালামাল (উপহারসামগ্রী) বরপক্ষকে দেন। তবে বিয়ের কয়েক মাস পার না হতেই দেবাংশু কুমার সরকার নতুন একটি প্রাইভেট কার ক্রয়ের জন্য তার স্ত্রীর কাছে ৩০ লাখ টাকা দাবি করেন। তবে হৃদিতা অক্ষমতার কথা জানালে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতে থাকেন। এরই মধ্যে ঠাকুরগাঁও থেকে নেত্রকোনা হয়ে রংপুরে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগদান করলেও দেবাংশু কুমার সরকার যৌতুকের জন্য হৃদিতাকে চাপ দিতে থাকেন। এর মধ্যে তিনি মাদক ও বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। গোপনে দ্বিতীয় বিয়েও করেন। দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি জানাজানি হলে দেবাংশু ৩০ লাখ টাকা ছাড়া হৃদিতার সঙ্গে সংসার না করার সিদ্ধান্তের কথা জানান। এ নিয়ে চলতি বছর ২৮ মার্চ হৃদিতা তার স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে রংপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত গিয়ে হামলার শিকার হন। ওই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে ২১ দিন চিকিৎসা শেষে গত ১৭ এপ্রিল রংপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা করতে গেলে থানা থেকে মামলা নথিভুক্ত করতে অপারগতা প্রকাশ করা হয়। পরে আদালতের শরণাপন্ন হন তিনি।

আইনজীবী খন্দকার রফিক হাসনাইন জানান, আগামী বৃহস্পতিবার মামলার আবেদনের শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত।