বিএনপি শুধু ভোটের সময় ‘কড়া মুসলমান’ হয়ে যায় বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, ‘ভোট চলে গেলে ইসলামের জন্য, আলেম-ওলামাদের জন্য কাজের কথা তারা (বিএনপি) ভুলে যায়। এরশাদ সাহেব ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করেছেন, বেগম খালেদা জিয়া আলেম-ওলামাদের মাথায় হাত বুলিয়ে ভোট নিয়েছেন, কিন্তু ইসলামের খেদমতে তারা কাজ করেননি। তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।’
গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীতে জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ইউনাইটেড ইসলামী পার্টির ইফতার ও আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গত সাড়ে তেরো বছর আওয়ামী লীগ দেশ পরিচালনার আগে অনেক সরকার এসেছে, কিন্তু ইসলামের খেদমতে অন্য কেউ এত কাজ করেনি। ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি ছিল শতবর্ষ পুরনো। বিএনপি জামায়াতকে নিয়ে, এরশাদ সাহেব মাওলানা মান্নানকে নিয়ে ক্ষমতায় ছিলেন। ভোটের সময় তারা ইসলামের কথা খুব বক্তৃতা করেছেন, কিন্তু কেউ সেই দাবি পূরণ করেনি। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাই ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘একইভাবে কওমি মাদ্রাসাকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে এটি কেউ কল্পনা করতে পারেনি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং স্বীকৃতি দিলেও চাকরি হবে না এমন মন্তব্যকারীদের বিস্মিত করে শুধু চাকরিই নয়, সরকারি চাকরি দিয়েছেন। দেশে প্রায় এক লাখ মসজিদভিত্তিক মক্তব প্রতিষ্ঠা, মক্তবপ্রতি শিক্ষককে মাসে ৫ হাজার ২০০ টাকা ভাতা দেওয়া, পাশাপাশি ২০ হাজার দারুল আরকাম ইবতেদায়ি মাদ্রাসাকে ১২ হাজার টাকা করে মাসিক ভাতা দেওয়া শেখ হাসিনা নিজ উদ্যোগে চালু করেছেন।’
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বহু ইসলামি রাষ্ট্র আছে, কিন্তু একমাত্র বাংলাদেশেই বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বে সারা দেশে একসঙ্গে প্রতি জেলা ও উপজেলায় ৬০০ মসজিদ নির্মিত হচ্ছে। এ মসজিদগুলো বাইরে থেকে দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়, ভেতরে ঢুকলে মন জুড়িয়ে যায়। ঢাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদে কোনো গম্বুজ ছিল না। শেখ হাসিনা প্রথমবার ক্ষমতায় এসে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন এবং মাঝখানে বিএনপি ও তত্ত্বাবধায়ক কোনো সরকারই এ কাজ সমাপ্ত করতে পারেনি, আবার ক্ষমতায় এসে পরম করুণাময়ের ইচ্ছায় শেখ হাসিনাই এটি সমাপ্ত করলেন।’
ইউনাইটেড ইসলামী পার্টির চেয়ারম্যান মাওলানা মো. ইসমাইল হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান, সাবেক এমপি আলহাজ মো. সিরাজুল ইসলাম মোল্লা প্রমুখ।