হবিগঞ্জ শহরের ঐতিহ্যবাহী চন্দ্রনাথ পুকুর ভরাট বন্ধ করে পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)। স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়নমন্ত্রী বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে সংগঠনটির সভাপতি সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল ও সম্পাদক শরীফ জামিল এ দাবি জানিয়েছেন। গত ১৭ এপ্রিল ‘শতবর্ষী পুকুর ভরাট করে মার্কেট!’ শিরোনামে দৈনিক দেশ রূপান্তরে একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর বাপার নেতারা স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে এ চিঠি পাঠান।
একই দিন হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসন পুকুরটি ভরাটের কাজ বন্ধের পদক্ষেপ নেয়। জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহানের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পুকুরপাড়ে গিয়ে মাটি ভরাট বন্ধের নির্দেশ দেন। তবে সেই আদেশ অমান্য করায় গতকাল বুধবার দুই শ্রমিককে আটক করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বরাবর পাঠানো বাপার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, ‘গত দুই দশকে হবিগঞ্জের অনেক পুকুর ও প্রাকৃতিক জলাশয় যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এবং দখলের কারণে ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে শহরটি জলাবদ্ধতা ও ভূগর্ভস্থ পানি সংকটে চরমভাবে বিপর্যস্ত। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, বিগত প্রায় এক সপ্তাহ যাবৎ বঙ্গবন্ধু পরিবারের স্মৃতিবিজরিত শতবর্ষী চন্দ্রনাথ পুকুরটি ভরাট করে মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে হবিগঞ্জ পৌরসভা। কিছুদিন ধরে পুকুরটিতে মাটি ভরাট কার্যক্রম চলছে, যা খুবই উদ্বেগজনক ও একটি বেআইনি ঘটনা। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ শহরের পুকুরসহ পুরাতন খোয়াই নদী পুনরুদ্ধারের দাবি দীর্ঘদিন যাবৎ জানিয়ে আসছে। ইতিমধ্যে সরকার শহরের পুরান মুন্সেফীর পুকুর, নায়েবের পুকুর ও জজকোর্টের পুকুর রক্ষায় আন্তরিক ভূমিকা পালন করেছে যা প্রশংসার দাবি রাখে। কিন্তু হবিগঞ্জের অন্যান্য পুকুর এবং পুরাতন খোয়াই নদী অবৈধ দখলের হাত থেকে পুনরুদ্ধার না করে হবিগঞ্জ পৌরসভা বহুতল শপিং মল নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করায় আমার বিস্মিত।’
প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা অনুযায়ী সরকার দেশের যেকোনো পৌর এলাকার পুকুর সংরক্ষণের যে লিখিত নির্দেশনা আগে দিয়েছে তার বরখেলাপ করা হচ্ছে উল্লেখ করে চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘চন্দ্রনাথ পুকুরকে ঘিরে দৃষ্টিনন্দন জনকল্যাণকর উদ্যোগ গ্রহণ করার সুযোগ রয়েছে। পুকুরটি খনন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী ও সংস্থাসমূহের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে একটি সুবিবেচিত নকশা প্রণয়নের মাধ্যমে পুকুরটি দৃষ্টিনন্দন করে নাগরিক সুবিধার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। চন্দ্রনাথ পুকুর, পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিসের সামনের পুকুরসহ অন্যান্য পুকুর ও পুরাতন খোয়াই নদী পুনরুদ্ধারে হবিগঞ্জের ভূগর্ভস্থ পানি সংকট, জলাবদ্ধতা নিরসনসহ পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষায় অংশগ্রহণমূলক ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে হবিগঞ্জ শহরের যেসব পুকুর দখল-ভরাট হয়ে গেছে সেগুলো পুনরুদ্ধার, খনন, সংরক্ষণ এবং কীভাবে পরিশোধন করে ব্যবহার করা যায় সেই চিন্তা করতে হবে।’