দর হ্রাসের সীমা বাড়ানোর পরও তেজিভাব পুঁজিবাজারে

চলমান পরিস্থিতিতে শেয়ার দর হ্রাসের সার্কিট ব্রেকার ২ শতাংশ তুলে দিলে ব্যাপক দরপতন হতে পারে এমন শঙ্কা সাধারণ বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে খোদ নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসির মধ্যেও ছিল। কিন্তু গতকাল সার্কিট ব্রেকারের এ হার ৫ শতাংশে উন্নীত করার পর কোনো দরপতন হয়নি। উল্টো আগের দুই দিনের ধারাবাহিকতায় তেজিভাব বজায় ছিল পুঁজিবাজারে। অধিকাংশ শেয়ারের দর বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে মূল্যসূচক ও লেনদেনের পরিমাণ।

গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধান পুঁজিবাজার ডিএসইতে ৩৮০ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের কেনাবেচা হয়েছে। প্রথম মিনিট ছাড়া চার ঘণ্টার লেনদেনের পুরো সময়ে সূচক ছিল ঊর্ধ্বমুখী। শেষ পর্যন্ত প্রায় ৫৬ পয়েন্ট বেড়ে ৬৬৬২ পয়েন্ট ছাড়িয়েছে। গতকাল ৩০০ শেয়ারের দর বেড়ে দিনের লেনদেন শেষ হয়। দর কমেছে ৫৫টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৫টির।

বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, যখনই কোনো শেয়ারের দাম অনেকটা কমে যায়, তখন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্রেতা জুটে যায়। আর ক্রেতা বাড়লে চাহিদার কারণে শেয়ারের দরও বাড়ে। গতকালের আগে সার্কিট ব্রেকার ২ শতাংশ থাকায় ওই দরে গিয়ে অনেক শেয়ার ক্রেতাশূন্য হতো। কারণ ওই অবস্থায় বোঝার উপায় থাকে না যে সংশ্লিষ্ট শেয়ারের দর আরও কমবে কিনা। গতকাল নিচের সার্কিট ব্রেকার ৫ শতাংশ থাকার কারণে এ সমস্যা খুব একটা হয়নি।

সার্বিক লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, লেনদেনের পুরো সময়ে মাত্র ১৩ কোম্পানির শেয়ার সার্কিট ব্রেকারের সর্বনিম্ন দরে কেনাবেচা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ওই দরে স্থির ছিল পাঁচটি। এগুলো হলো বিআইএফসি, ফ্যামিলিটেক্স, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক এবং প্রাইম ব্যাংক।

অথচ গত বুধবারও লেনদেনের মাঝে ৭২ শেয়ার সার্কিট ব্রেকারের সর্বনিম্ন দরে কেনাবেচা হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত ওই দরে স্থির ছিল ১৯টি। মঙ্গলবার লেনদেনের এ সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ২৫৬ ও ৩৫টি। এই দুই দিনে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসির হস্তক্ষেপে শেয়ারদর ও সূচক বৃদ্ধি পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত সার্কিট ব্রেকারের সর্বনিম্ন দরে কেনাবেচা হওয়া শেয়ার সংখ্যা কম ছিল। কিন্তু আগের দিন গত সোমবার ৩০২ শেয়ার সার্কিট ব্রেকারের সর্বনিম্ন দরে কেনাবেচার পর লেনদেনের শেষ পর্যন্ত ওই দরে স্থির ছিল ২৩৭টি। আগের কয়েক সপ্তাহের বেশিরভাগ দিনের লেনদেন চিত্র ছিল এমনই।

বাজার সূত্র জানায়, নিচের সার্কিট ব্রেকারের সীমা ২ থেকে ৫ শতাংশ করা হবে এমন প্রতিশ্র“তি পাওয়ার পর কয়েকজন বড় বিনিয়োগকারী গত বুধবার থেকে নতুন করে বিনিয়োগ শুরু করেছেন। তাদের বিনিয়োগে কয়েকটি শেয়ারের দর বেড়েছে। এটা দেখে অন্য সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও শেয়ার কেনায় আগ্রহ তৈরি হয়।

এদিকে সার্কিট ব্রেকারের সর্বনিম্ন সংশোধন, অন্যদিকে বড় বিনিয়োগকারীরা সক্রিয় হওয়ায় গতকাল ডিএসইতে ৭৫৪ কোটি টাকা মূল্যের শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে; যা বুধবারের তুলনায় ১৪৮ কোটি টাকা বেশি। তাছাড়া লেনদেন চলতি সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসের লেনদেনের তুলনায় ৩৬০ কোটি টাকা বেশি। সপ্তাহের প্রথম দুই কার্যদিবসে ডিএসইর লেনদেন ৪০০ কোটি টাকার নিচে নেমেছিল।

এদিকে সার্বিক ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ৫ থেকে পৌনে ১০ শতাংশ পর্যন্ত শেয়ারদর বেড়েছে ১৭ কোম্পানির। এর মধ্যে বিডিকমের শেয়ারদর পৌনে ১০ শতাংশ বেড়ে ছিল লেনদেনের শীর্ষে। ৭ শতাংশের ওপর দর বেড়ে এর পরের অবস্থানে ছিল আইপিডিসি ও এনআরবিসি ব্যাংক।  অবশ্য এই তিন শেয়ার নিয়ে কারসাজি চলছে বলে জানান বাজার সংশ্লিষ্টরা।

৫ শতাংশের ওপর দরবৃদ্ধি পাওয়া অন্য শেয়ারগুলো ছিল মোজাফফর হোসেন স্পিনিং মিলস, ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস, ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্স, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, এশিয়া প্যাসিফিক ইন্স্যুরেন্স, ঢাকা ইন্স্যুরেন্স, ইমাম বাটন, ইনটেক, আল-হাজ্ব টেক্সটাইল, ফু-ওয়াং ফুডস, ঢাকা ডাইং এবং ব্যাংক এশিয়া।