খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনিতে একটি ঢিবি খনন করে মিলল হাজার বছর আগে প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর খুলনার আঞ্চলিক পরিচালক আফরোজা খানের নেতৃত্বে একটি দল গত ১২ মার্চ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত খনন করে স্থাপনাসহ নানা নিদর্শন উন্মুক্ত করেন। প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা, নিদর্শনগুলো নবম থেকে দ্বাদশ শতকের।
আফরোজা খান জানান, কপিলমুনি ইউনিয়নের রেজাকপুর গ্রামের ওই ঢিবির নাম দেওয়া হয়েছে কপিলমুনি ঢিবি। ঢিবিটির আনুমানিক দৈর্ঘ্য ২৫০ মিটার। প্রস্থ ১৮০ মিটার। ঢিবিটি সমুদ্রসমতল থেকে ৩ দশমিক ৪৪ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। টিবিটি বর্তমান সময়ে স্থানীয় মানুষের ঘরবাড়ি, রাস্তা, গোয়ালঘর, পুকুর, ডোবা, ফলের বাগান ও বাঁশঝাড়পূর্ণ। খননকালে সেখানে বিভিন্ন মৃৎপাত্র ও মূর্তির অংশ মিলেছে।
আফরোজা খান বলেন, ‘প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো পর্যবেক্ষণ করে আমাদের মনে হয়েছে সেগুলো ১১০০ থেকে ১২০০ বছরের পুরনো। আগে খুলনা, সাতক্ষীরা ও যশোর এলাকায় যেসব প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পাওয়া গেছে, তার সঙ্গে রেজাকপুরের নিদর্শনের মিল আছে। ফলে পুরো এলাকায় প্রাচীনসভ্যতার নিদর্শন থাকতে পারে বলে আমাদের মনে হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা আপাতত কাজ শেষ করছি। এরপর এই জায়গাটি সরকারিভাবে অধিগ্রহণের মাধ্যমে সংরক্ষণ করা হবে। এর আশপাশে আরও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন রয়েছে। পর্যায়ক্রমে সেগুলোকেও খনন করা হবে।’
প্রত্নতাত্ত্বিক খনন দলকে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছেন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক এ কে এম সাইফুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আদি মধ্যযুগের একটি স্থাপনা। এটি বলার পেছনে আমাদের কয়েকটি যুক্তি রয়েছে। তার মধ্যে ইট ও নির্মাণ কৌশল অন্যতম। তা ছাড়া এখানে মৃৎপাত্র পাওয়া গেছে, তার একটি বৈশিষ্ট্য ও ধরন রয়েছে, যা আদি মধ্যযুগের বিভিন্ন প্রত্নস্থানে পাওয়া যায়। তবে তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য আরও গবেষণা করতে হবে।’
প্রত্নতাত্ত্বিক দলটি বলছে, কপিলমুনি ইউনিয়নের কপিলমুনি, রেজাকপুর, রামনগর, সিংহজানি, কাশিমনগরসহ বড় একটা এলাকাজুড়ে অনেক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন রয়েছে বলে প্রাথমিক জরিপে দেখা গেছে, যা এখনো টিকে আছে। আগে রেজাকপুরের এলাকাটি ‘কপিলমুনি-আগ্রা’ নামে পরিচিত ছিল। কিন্তু প্রশাসনিক নাম পরিবর্তনের কারণে কপিলমুনির সঙ্গে থাকা আগ্রা অংশ বাদ পড়ে যায়। চলমান খননে স্থাপত্য কাঠামোটির কোণগুলোতে কৌণিকভাবে প্রসারিত দেয়াল পাওয়া গেছে। এই দেয়ালগুলোর স্বরূপ ও প্রকৃতি আরও বেশি স্থানজুড়ে খনন হলে বোঝা যাবে।