সরকারের অপরাধ ভয়ংকর : ফখরুল

‘আমাদের অপরাধ কী?’প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে আমাদের অপরাধটা কী?’ তাদের অপরাধ হচ্ছে সবচেয়ে ভয়ংকর অপরাধ। এ দেশে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছেন, এ দেশে তারা মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছেন, এ দেশকে তারা দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এসব কথা বলেন তিনি।

‘কয়েকটি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ সরকারকে উৎখাতে ষড়যন্ত্র করছে’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ বক্তব্যের জবাবে ফখরুল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্য থেকে প্রমাণিত হয় যে, অবৈধ প্রধানমন্ত্রী এবং অবৈধ যে সরকার আছে, তারা সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে দেশ পরিচালনা করতে। দেশকে সুষ্ঠু জায়গায় নিয়ে আসতে। দেশে সত্যিকার অর্থে একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে।’

তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষ দাবি তুলেছে এ মুহূর্তে এ সরকারের পদত্যাগ করা উচিত। নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে নিরপেক্ষ সরকারের তত্ত্বাবধানে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় জনগণের একটি নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠা করা।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে আবারও প্রমাণিত হয়েছে, দেশে আসলে কোনো সরকার নেই। এ সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ সরকার। তারা রাষ্ট্রকেও ব্যর্থরাষ্ট্রে পরিণত করেছে।’

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তাদের চোখের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সংঘর্ষ হয়েছে, সেটা বন্ধের জন্য তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। উপরন্তু তাদের কর্মকর্তারা বিভিন্নভাবে বক্তব্য দিচ্ছেন, তারা কোনো পক্ষেই ছিলেন না, নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছে। নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে তারা সংঘর্ষকে আরও ভয়াবহ হতে ভূমিকা পালন করেছে। এ মৃত্যুর জন্য, হত্যার জন্য তারাই দায়ী।’

‘বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে জার্মান রাষ্ট্রদূতকে মিসকোড করে বিএনপি বক্তব্য দিয়েছে রাষ্ট্রদূতের এমন বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এ কথাগুলো তিনি সঠিক বলেননি। কারণ আমাদের তিনি (আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী) কখনোই জার্মান রাষ্ট্রদূতকে কোড করে এ কথাগুলো বলেননি। জার্মান রাষ্ট্রদূত ভুল উদ্ধৃতি দিয়েছেন।’

ছাত্রদলের নতুন কমিটির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নতুন কমিটি মাজারে ফুল দিয়ে শপথ নিয়েছে, তারা সংগঠনকে অত্যন্ত সুসংগঠিত ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ছাত্রদলকে উপযোগী করে তুলবে। আজকে দেশে যে সংকট, গণতন্ত্রহীনতা, জনগণের ভোটাধিকার হরণ ও ছাত্রদের যে ন্যূনতম দাবি, সেগুলো পূরণ না করা, শিক্ষাব্যয় কমানো, শিক্ষা শেষে যেন কর্মসংস্থান পায় সেই আন্দোলনগুলো অবশ্যই ছাত্রদল করবে।’ 

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ঢাকা মহানগর বিএনপি নেতা আমানউল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, ছাত্রদলের সভাপতি কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি রাশেদ ইকবাল খান প্রমুখ।