পূর্বনির্ধারিত ঘোষণা অনুযায়ী এবারের ঈদযাত্রায় ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে আজ শনিবার থেকে। কিন্তু তার এক দিন আগেই গতকাল শুক্রবার কমলাপুর রেলস্টেশনে অগ্রিম টিকিট কিনতে আসা মানুষের ঢল নামে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় আরও বাড়তে থাকে। এসব মানুষ ঈদের ছুটি শুরুর আগেই পরিবারের সদস্যদের গ্রামের বাড়িতে পাঠানোর জন্য আগেভাগে ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করতে যান। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী তারা ২২ থেকে ২৬ এপ্রিলের মধ্যের টিকিট কাটতে পেরেছেন। যদিও অনেকেই টিকিট না পেয়ে খালি হাতে ফিরে গেছেন।
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে গতকাল ট্রেনের অগ্রিম টিকিট কিনতে গিয়েছিলেন ব্যাংক কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকি। মেয়ের স্কুল ছুটি হয়েছে। গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ। ওদের শুরুর আগেই কমলাপুরে ভিড় আগেই বাড়িতে পাঠিয়ে দেব। আমি পরে যাব। গতকাল (বৃহস্পতিবার) দুপুরেও টিকিট নিতে এসেছিলাম, কিন্তু পাইনি। তাই আজ (শুক্রবার) সকাল সকালই এসেছি।’
কমলাপুর স্টেশনে গতকাল এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় টিকিট কিনতে আসা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানজিব মাহমুদের। তিনি বলেন, ‘আমার ক্যাম্পাস ছুটি হবে ২৫ তারিখ। আমি ওইদিন রাতে বাড়ি যাব, তাই অগ্রিম টিকিট কাটতে এসেছি। সকাল ৯টায় কমলাপুর এসে দেখি অগ্রিম টিকিটের লাইন রাস্তা পর্যন্ত নেমে এসেছে। কী আর করা, এত গরমের মধ্যে এত সময় অপেক্ষা করা সম্ভব না। কাল (আজ শনিবার) ভোরে সাহরি খেয়েই আবার আসব।’
বাংলাদেশ রেলওয়ের তথ্যমতে, ঈদযাত্রার প্রথম টিকিট বিক্রি শুরু হবে আজ শনিবার থেকে। এদিন যারা টিকিট সংগ্রহ করবে তারা ২৭ এপ্রিলের টিকিট পাবেন। এরপর ২৪ এপ্রিল বিক্রি হবে ২৮ এপ্রিলের টিকিট। ২৫ এপ্রিল ২৯ এপ্রিলের টিকিট , ২৬ এপ্রিল ৩০ এপ্রিলের এবং ২৭ এপ্রিল ১ মে’র ট্রেনের টিকিট বিক্রি করা হবে। ঈদের পর ফিরতি যাত্রা শুরু হবে ৫ মে থেকে। ফিরতি টিকিট বিক্রি হবে ১ মে। চাঁদ দেখাসাপেক্ষে ২ মে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হবে ধরে নিয়ে টিকিট বিক্রির এই সময়সূচি নির্ধারণ করেছে রেলওয়ে। রোজা ৩০টি হলে অর্থাৎ ৩ মে ঈদ হলে ২৮ এপ্রিল বিক্রি করা হবে ২ মে’র ট্রেনের টিকিট।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈদযাত্রায় নিয়মিত ১০২টি আন্তঃনগর ট্রেনের পাশাপাশি ছয় জোড়া স্পেশাল ট্রেন চলাচল করবে। এ ছাড়া ঈদের আগে ঢাকা-কলকাতা রুটের মৈত্রী এক্সপ্রেস চালু না হলে তার ইঞ্জিন ও বগি দিয়ে খুলনা স্পেশাল নামে ঢাকা-খুলনা রুটে একটি বাড়তি ট্রেন চালানো হবে। এর বাইরে ঈদের দিন শোলাকিয়া স্পেশাল নামে এক জোড়া ট্রেন চালানোর বিষয়ে আলোচনা রয়েছে।
রেলওয়ে বলছে, ঈদের সময় যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা বাড়াতে ৯৩টি অতিরিক্ত বগি যুক্ত হবে রেলের বহরে। সকাল ৮টা থেকে কাউন্টারে টিকিট বিক্রি হবে। অনলাইনে টিকিট দেওয়া হবে সকাল ৬টা থেকে। কমলাপুর স্টেশনে ২৩টি কাউন্টারে টিকিট বিক্রি হবে। একটি কাউন্টার থাকছে নারীদের জন্য সংরক্ষিত।
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার মাসুদ সারওয়ার বলেন, ‘কালোবাজারে টিকিট বিক্রি ঠেকাতে বেশকিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের টিকিট সংগ্রহ করতে হলে এনআইডি ব্যবহার করতে হবে। প্রত্যেকের এনআইডি নম্বর ও তাতে দেওয়া তথ্য যাচাই করে টিকিট দেওয়া হবে। এ ছাড়া স্টেশনগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদারকি থাকবে।’
যাত্রীদের ভোগান্তি দূর করতে ২০১৯ সালে বাংলাদেশ রেলওয়ে চালু করে ‘রেলসেবা অ্যাপ’। তখন বলা হয়েছিল, অ্যাপটি ব্যবহার করে সহজেই টিকিট কাটাসহ আনুষঙ্গিক সেবা মিলবে। এবার রেলের টিকিট ব্যবস্থাপনার কারিগরি দিক দেখভালের দায়িত্ব পেয়েছে সহজ ডটকম। প্রতিষ্ঠানটির জনসংযোগ কর্মকর্তা ফারহাত আহমেদ বলেন, ‘সারা দেশে ৭৭টি কাস্টমার পয়েন্ট রয়েছে। যেখান থেকে সহজের রেলের টিকিট সংগ্রহ করা যাবে। এ ছাড়া রাজধানীর ফুলবাড়িয়া ও তেজগাঁও এলাকায় আরও দুটি অস্থায়ী কাউন্টার দেওয়া হবে ঈদ উপলক্ষে। এসব কাউন্টারে উন্নতমানে সফটওয়্যার দেওয়া হয়েছে যাতে কোনো ধরনের ঝামেলা না হয়। আমরা আশা করি আগের মতো যাত্রীদের আর ভোগান্তি পোহাতে হবে না।’