সিরাজগঞ্জে মসজিদ ঈদগাহ নিয়ে সংঘর্ষে প্রাণ গেল দুজনের

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ঈদগাহ মাঠের কমিটি গঠন নিয়ে সংঘর্ষ ও সলঙ্গায় মসজিদে ইমামের টাকা তোলা নিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া জেলাটির বেলকুচিতে পূর্বশত্রুতার জেরে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আরও একজনের প্রাণ গেছে। তিন সংঘাতের ঘটনায় আহত হয়েছে আরও কমপক্ষে ২৫ জন। গত শুক্রবার দুপুরে এসব ঘটনা ঘটে।

শাহজাদপুরে ঈদগাহ মাঠের কমিটি নিয়ে বিবাদের জেরে সংঘর্ষে নিহতের নাম বিপ্লব সরকার বিপুল (৪২)। গত শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কায়েমপুর ইউনিয়নের পাড়মনোহারা ঈদগাহ মাঠের কমিটি গঠন নিয়ে ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হাসান সরদার ও জাহাঙ্গীর আলম ওরফে আকমলের লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কমপক্ষে ১০ জন। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহত বিপুল কায়েমপুর ইউনিয়নের গোপিনাথপুর গ্রামের মোক্তারুজ্জামান সরকারের ছেলে। সংঘর্ষে জড়িত অভিযোগে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৬ জনকে আটক করেছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, পাড়মনোহারা ঈদগাহ মাঠ কমিটির সভাপতি পদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হাসান সরদার ও জাহাঙ্গীর আলম ওরফে আকমল সরকারের মধ্যে বিরোধ চলছিল। গত শুক্রবার কমিটির জরুরি সভার ঘোষণা দিয়ে ঈদগাহ কমিটির কোষাধ্যক্ষ লুৎফর রহমান মাইকে প্রচার শুরু করেন। এ সময় কিছু লোক প্রচারে বাধা দিয়ে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। এর ঘণ্টাখানেক পর নিহত বিপুল শ্যামবাড়িয়ায় তার অসুস্থ চাচাকে দেখে মোটরসাইকেলে চড়ে তার দোকানে ফিরছিলেন। পথে নিজ গ্রাম গোপিনাথপুর পশ্চিম পাড়ার আলী আজগর মোনোর বাড়ির সামনে তাকে থামায় হাসান সরদারের লোকজন। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে বিপুলকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে চলে যায়। এ খবর পেয়ে বিপুলের বাড়ির লোকজন ছুটে এলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে আরও ১০ জন আহত হয়। ঘটনার পরপরই বিপুলকে উদ্ধার করে প্রথমে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সেখান থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীর আলম ওরফে আকমল সরকার বলেন, ‘পাঁচ গ্রাম মিলে যৌথ পাড়মনোহারা ঈদগাহ ময়দান। আমার বাবা দীর্ঘদিন ওই ঈদগাহ ময়দানের সভাপতি ছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর গত ফেব্রুয়ারি মাসে ৩১ সদস্যের কমিটি গঠন হলে ২৬ জন সদস্য সভাপতি হিসেবে আমার নাম প্রস্তাব করে সভাপতি নিযুক্ত করেন। কিন্তু আমার প্রতিপক্ষ সাবেক চেয়ারম্যান হাসান সরদার ওই কমিটির কাউকে না জানিয়ে ঈদগাহ কমিটির কোষাধ্যক্ষ লুৎফর রহমানকে দিয়ে শনিবার জরুরি সভা আহ্বান করে মাইকিং করাতে থাকে। এরই জের ধরে সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে।’ নিহত বিপুল তাদের পক্ষের লোক বলেও জানান তিনি।

সংঘর্ষের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাবেক চেয়ারম্যান হাসান সরদারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

কায়েমপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান জিয়াউল আলম ঝুনু বলেন, ‘জানমালের যেন আর কোনো ক্ষতি না হয় সেজন্য সবাইকে সজাগ থাকার অনুরোধ করেছি। গ্রামের বিভিন্ন মোড়ে গ্রামপুলিশ বসানো হয়েছে।’

শাহজাদপুর থানার ওসি শাহিদ মাহমুদ খান বলেন, ‘সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন এবং ৬ জনকে আটক করা হয়। নিহতের ভাই সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হাসানসহ ১৫ জনকে আসামি করে মামলা করেছে।’

সলঙ্গায় ইমামের বেতনের টাকা তোলা নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ১ : রায়গঞ্জ উপজেলার সলঙ্গা থানার নলকা ইউনিয়নের চক মনোহরপুর গ্রামে মসজিদের ইমামের বেতনের টাকা তোলাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে একজন নিহত ও কমপক্ষে পাঁচজন আহত হয়েছেন।

নিহত খোরশেদ আলম (৬০) চক মনোহরপুর গ্রামের প্রয়াত কছিম উদ্দিন শেখের ছেলে।

সলঙ্গা থানার ওসি আব্দুল কাদের জিলানী জানান, গত শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে চক মনোহরপুর মধ্যপাড়া জামে মসজিদের ইমামের বেতনের টাকা তোলা নিয়ে মসজিদ কমিটির সভাপতি ইউসুফ আলীর বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট ওয়াজেদ আলীর সঙ্গে নিহত খোরশেদ আলমের কথা কাটাকাটি হয়। এ নিয়ে উত্তেজনার একপর্যায়ে মসজিদের বাইরে এসে ইউসুফ আলী ও তার লোকজন খোরশেদ আলমকে মারধর করে। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে গতকাল শনিবার সকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয় খোরশেদ আলমের। এ ঘটনায় সলঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে।

বেলকুচিতে পূর্বশত্রুতার জেরে সংঘর্ষে নিহত ১ : বেলকুচির দৌলতপুর ইউনিয়নের তেয়াশিয়া দক্ষিণপাড়া গ্রামে পূর্বশত্রুতার জেরে দু’পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন। নিহত বাবলু ব্যাপারী (৪০) একই গ্রামের তেয়াশিয়া দক্ষিণ পাড়া গ্রামের প্রয়াত আব্দুস সাত্তারের ছেলে।

এলাকাবাসী জানায়, তেয়াশিয়া দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদে শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল মালেকের সঙ্গে তার চাচাতো ভাই মুছার পূর্বশত্রুতার জেরে দু’পক্ষের সংঘর্ষ বাধে। এতে উভয়পক্ষের ৬ জন আহত হন। তাদের উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মুছার পক্ষের বাবলুকে মৃত ঘোষণা করেন।

বেলকুচি থানার ওসি গোলাম মোস্তফা গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সংঘর্ষের খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। এখন সেখানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।’