সাভারের রানা প্লাজার ট্র্যাজেডির নয় বছর পূর্তিতে নিহত ও নিখোঁজ শ্রমিকদের স্মরণ করলেন স্বজন-সহকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা। গতকাল রবিবার রানা প্লাজার সামনে অস্থায়ী বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তারা। পাশাপাশি ওই ঘটনায় আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণসহ ২৪ এপ্রিলকে শোক দিবস ঘোষণার দাবি জানান তারা।
গতকাল দিবসটি উপলক্ষে ৫৪টি গার্মেন্টস শ্রমিক সংগঠন নিয়ে গঠিত ‘গার্মেন্টস শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ’-এর উদ্যোগে সকাল ১০টায় রানা প্লাজার নির্মিত অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভের সামনে একটি শ্রমিক সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে শ্রমিক নেতারা ২৪ এপ্রিলকে শোক দিবস ঘোষণা করে হতাহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ, স্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ, শ্রমিক হত্যার বিচার, শ্রমিকদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার দাবি জানান।
এর আগে সকাল ৯টায় শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট, জি-স্কপ, শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরামরে পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তারা বলেন, নিহত শ্রমিক পরিবারকে আজীবন আয়ের সমান (৪৮ লাখ টাকা) ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
উল্লিখিত সমাবেশে ভয়ংকর সেই স্মৃতির কথা স্মরণ করেন ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরাও। রানা প্লাজা সারভাইভার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহমুদুল হাসান হৃদয়। ওই দুর্ঘটনায় মেরুদণ্ডের আঘাত, বুকের পাঁজর ভেঙে যাওয়াসহ ডান পা অবস হয়ে গেছে তার। ক্র্যাচে ভর দেওয়া ছাড়া উঠে দাঁড়ানোর শক্তিটুকুও আর অবশিষ্ট নেই তার। এখন ওষুধের ওপরেই বেঁচে আছেন তিনি। ওষুধের খরচ, সংসারের ব্যয়ের চাপে জীবনটা তার কাছে অসহ্য যন্ত্রণাময় হয়ে উঠেছে বলে জানান হৃদয়।
আহত আরেক শ্রমিক নিলুফা বেগম বলেন, ‘নয় বছর পূর্ণ হলো, তবুও আমার উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ পেলাম না। টাকার অভাবে নিজের চিকিৎসা করাতে পারছি না, ওষুধ খেতে পারছি না।’
নয় বছর ধরে মায়ের ঝাপসা স্মৃতি আঁকড়ে ধরে প্রতি বছরই বাবা ও নানির সঙ্গে রানা প্লাজার অস্থায়ী বেদিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে আসছে ১২ বছরের কিশোর আলিম। ভবন ধসের ঘটনায় নিহত মায়ের চেহারাটা ঠিকঠাক মনে পড়ে না আলিমের। তবে ধ্বংসস্তূপের সামনে ফ্যাল ফ্যাল করে দাঁড়িয়ে থাকে সে। আর যাদের কারণে মাকে হারিয়েছে, তাদের বিচার চায় মনে মনে।
২০১৩ সালের এই দিনে সাভারে রানা প্লাজা ধসে কমপক্ষে ১ হাজার ১৩৬ জন মানুষ মারা যায়, যাদের বেশিরভাগই পোশাক শ্রমিক। আহত হয় আড়াই হাজারের বেশি। শিল্প ইতিহাসে সবচেয়ে মারাত্মক এই ট্র্যাজেডির ঘটনায় বাংলাদেশে শ্রম নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
এ ঘটনার পরদিন সাভার থানার উপপরিদর্শক ওয়ালী আশরাফ খান সাভারের সাবেক যুবলীগ নেতা ও রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানাসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। আসামির মধ্যে এখন শুধু সোহেল রানা কারাগারে আছেন, ৩০ জন জামিনে আছেন এবং ৭ জন পলাতক। মারা গেছেন ৩ জন।