প্রতি ১০০ জনে ১ জন আক্রান্ত সিজোফ্রেনিয়ায়

দেশে প্রতি একশ প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে একজন গুরুতর মানসিক রোগ সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত। এ ছাড়া দেশের দুটি সরকারি মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের ৪০ শতাংশই সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত।

গতকাল রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে সিজোফ্রেনিয়া চিকিৎসার গাইডলাইনের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে এই তথ্য দেন মনোচিকিৎসকরা। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সাইক্রিয়াটিস্টস।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, শুধু শারীরিক রোগ নিয়ন্ত্রণ করলেই চলবে না, মানসিক স্বাস্থ্যের কথাও চিন্তা করতে হবে। অসংক্রামক রোগের মধ্যে মানসিক রোগ বাড়ছে। কিন্তু অনেকে সামাজিক লজ্জার কারণে চিকিৎসা নিতে চায় না।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, মানসিক রোগের কারণে প্রতিবছর ১৭ থেকে ২০ হাজার মানুষ আত্মহত্যা করছে। দেশে মানসিক স্বাস্থ্য আইন আছে, মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট সম্প্রসারণের কাজও শুরু হয়েছে। পাবনা মানসিক হাসপাতাল আরও বিস্তৃত করার কাজ চলছে। আট বিভাগে আটটি হাসপাতালে মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগ রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।

বিশেষ অতিথি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, গাইডলাইনটি যাতে উপজেলা পর্যন্ত সবাই ব্যবহার করে সেজন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সচেষ্ট থাকবে। সব জেলার সিভিল সার্জনসহ মেডিকেল কলেজের সংশ্লিষ্ট সবার কাছে এই গাইডলাইন পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এ ছাড়া পোস্ট কভিডে যারা মনোরোগে আক্রান্ত হয়েছে তাদের চিকিৎসার ব্যাপারেও মনোচিকিৎসকদের উল্লেখযোগ্য ভূমিকার কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, দেশের দুটি সরকারি মানসিক হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের ৪০-৪৩ শতাংশ রোগীই সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত। উপজেলা পর্যায়েও যেন এসব রোগীর চিকিৎসা দেওয়া যায়, সেভাবেই গাইডলাইনটি তৈরি হয়েছে।

অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ডা. মোহাম্মদ তারিকুল আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) অধ্যাপক মো. আজিজুল ইসলাম।