‘এহানে ওহানে ভাইসা বেড়াইছি এহন মাথা গোঁজার ঠাঁই হইছে’

‘৩৫ বছর আগে সিরাজগঞ্জ থেকে বরগুনা আইছি। হেরপর এহানে ওহানে ভাইসা ভাইসা বেড়াইছি। কেউ বাসা ভাড়া দেতে চায় নাই। এমনও দিন গেছে খড়কুটার মধ্যেও রাইত কাডাইছি। হেই মোগো আইজ প্রধানমন্ত্রী জমিসহ ঘর উপহার দিছে। ঈদের আগে এমন উপহার পাইয়া মোগো মধ্যে ঈদের চাইতেও বেশি আনন্দ হইতে আছে’ বরগুনায় ঈদ উপলক্ষে মুজিববর্ষে প্রধামন্ত্রীর উপহারের ঘর পেয়ে কথাগুলো বললেন তৃতীয় লিঙ্গের মৌসুমি আক্তার।

বরগুনায় গতকাল মঙ্গলবার শুধু মৌসুমি আক্তারই নন, তৃতীয় লিঙ্গের আরও ২১ জনসহ ঈদ উপলক্ষে মুজিববর্ষে প্রধামন্ত্রীর উপহারের ঘর পেয়েছেন শারীরিকভাবে অক্ষম, ভিক্ষুক ও সংখ্যালঘু ভূমিহীন ও গৃহহীন মিলে ৪১১ পরিবার।

নতুন ঘর পাওয়া মামুন বলেন, ‘আমি প্রতিবন্ধী। অন্যের বাড়িতে থাকতাম। এখানে-ওখানে ভিক্ষা করে সংসার চালাতাম। ঘর তো দূরে থাক, নিজের এক খ- জমির কথা কখনো কল্পনা করি নাই। প্রধানমন্ত্রী মোগো হেই ঘর দেছে। এডা তো মোর কাছে স্বপ্নের নাহান লাগে। যতদিন বেঁচে আছি ততদিন এই ঋণ শোধ করা যাইবে না। আল্লাহ যেন হেরে একশ বছর বাঁচাইয়া রাখে।’

জেলা প্রশাসন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মুজিববর্ষ উপলক্ষে বরগুনায় ভূমিহীন ও গৃহহীনদের পুনর্বাসন করার উদ্যোগ নেয় সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় বরগুনায় প্রথম পর্যায়ে ২৩২টি, দ্বিতীয় পর্যায়ে ৭৯৩টি ও তৃতীয় পর্যায়ে ৭২৫টি গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তৃতীয় পর্যায়ের ৭২৫টি ঘরের মধ্যে গতকাল গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে খাজুরতলা আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৪১১টি ঘর সুবিধাভোগীদের কাছে হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, খাজুরতলা এলাকার আশ্রয়ণ প্রকল্পে সব শ্রেণির মানুষের বসবাস রয়েছে। এ আবাসনে যাদের জমি ও ঘর দিয়ে পুনর্বাসন করা হয়েছে তাদের আর্থিকভাবে সচ্ছল করে গড়ে তুলতেও উদ্যোগ নেওয়া হবে।