তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের হুমকি রাশিয়ার

রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য ইউক্রেনে আরও অস্ত্র পাঠানোর ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র দেশগুলো একটি সম্মেলনে বসে গতকাল মঙ্গলবার। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ওই সম্মেলনের কোনো সিদ্ধান্ত জানা যায়নি। সম্মেলনের আগে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর ‘প্রকৃত’ হুমকি দিয়ে সতর্ক করেছে রাশিয়া। রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা শুরুর পর থেকেই পশ্চিমা দেশগুলো ইউক্রেনকে নানাভাবে সহযোগিতা দিয়ে আসছে। রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে ইউক্রেনে দফায় দফায় অস্ত্র পাঠাচ্ছে। কিন্তু সংঘাত আরও বাড়বে এমন আশঙ্কা থেকে পারমাণবিক শক্তিধর রাশিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে না পশ্চিমা দেশগুলো। রুশ বার্তা সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলার সময় রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ ‘তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের গুরুতর ঝুঁকির’ ব্যাপারে সতর্ক করার সঙ্গে সঙ্গে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার জন্য কিয়েভের সমালোচনা করেন। ল্যাভরভ বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে এ ঝুঁকি আছে, আপনি একে ছোট করে দেখতে পারেন না। ইউক্রেনে পশ্চিমা অস্ত্র সরবরাহের অর্থ ন্যাটো জোট এক অর্থে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়েছে।’ গত সোমবার ল্যাভরভ এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘যুদ্ধ অর্থ যুদ্ধই। পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো রাশিয়ার সঙ্গে এক অর্থে যুদ্ধে লিপ্ত। তারা ছায়াযুদ্ধ করে যাচ্ছে এবং অস্ত্র জুগিয়ে যাচ্ছে।’

পারমাণবিক সংঘাত প্রসঙ্গে ল্যাভরভ আরও বলেন, ‘পারমাণবিক সংঘাতের ঝুঁকিও রয়েছে যথেষ্ট। তবে মস্কো কৃত্রিমভাবে সৃষ্ট এ ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি এড়াতে চায়। আমি কৃত্রিমভাবে সে ঝুঁকি বাড়াতে চাই না। তবে অনেকেই তা চাইবে।’ পারমাণবিক সংঘাতের ঝুঁকি নিয়ে তিনি বলেন, ‘বিপদটি গুরুতর, বাস্তব এবং আমাদের এটিকে অবমূল্যায়ন করা উচিত নয়।’

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি কামান, যুদ্ধবিমানসহ ভারী অস্ত্রের জন্য পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে আবেদন জানিয়ে আসছেন। আরও অস্ত্র পেলে তার সেনারা যুদ্ধের গতি বদলে দিতে পারবেন বলে যুক্তি দিচ্ছেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে ইউক্রেনে আরও অস্ত্র পাঠানোর ব্যাপারে আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে পশ্চিমা ৪০টি দেশ জার্মানিতে বৈঠকে মিলিত হয়।

এদিকে রুশ বাহিনীর হাতে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় ডনবাসের কেমিন্না শহরের পতন হয়েছে বলে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। তবে লুহানস্কের এই শহরটির পতনের বিষয়ে তারা আর বিস্তারিত কিছু জানায়নি। বিবিসি জানিয়েছে, রাশিয়ার বাহিনীগুলো প্রায় ১৮ হাজার বাসিন্দার শহর কেমিন্না নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে, বিভিন্ন প্রতিবেদনে এ খবর আগেই প্রকাশিত হয়েছিল। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাশিয়ার বাহিনীগুলো উত্তর ও দক্ষিণ দিক থেকে সেøাভিয়নস্ক ও ক্রামাতোর্স্কর দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে ইজুম শহরের দক্ষিণে ইউক্রেনীয় বাহিনীগুলোর সঙ্গে তাদের তীব্র লড়াই শুরু হয়েছে।

রাশিয়ার বাহিনীগুলো ডনবাস অঞ্চলে অত্যন্ত সুরক্ষিত ইউক্রেনীয় অবস্থানগুলো ঘিরে ফেলার চেষ্টা করছে, এমন ধারণা পাওয়ার কথা জানিয়েছে তারা। রাশিয়ার বাহিনীগুলো দক্ষিণ দিক থেকে জাপোরিঝিয়া শহরে আক্রমণ করতে পারে, এমন সম্ভাবনাকে সামনে রেখে ইউক্রেনীয় বাহিনীগুলো সেখানে প্রতিরক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানিয়েছে তারা।

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হওয়ার পর গত সপ্তাহে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় ডনবাসের প্রদেশগুলোতে বড় ধরনের আক্রমণ শুরু করে রাশিয়া। এই অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে পূর্বাঞ্চলে রুশপন্থি ইউক্রেনীয় বিদ্রোহীদের অধিকৃত এলাকাগুলোর সঙ্গে ২০১৪ সালে মস্কোর অধিকৃত ক্রিমিয়ার সরাসরি সংযোগ স্থাপন করতে পারবে তারা।