রাজধানীর কলাবাগান এলাকার তেঁতুলতলা খেলার মাঠ রক্ষার আন্দোলনের মধ্যেই সেখানে চলছে কলাবাগান থানা ভবন নির্মাণের কাজ। আগের কয়েক দিনের মতো গতকাল মঙ্গলবারও ওই মাঠটিতে পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতে নির্মাণকর্মীরা কাজ চালিয়ে গেছেন।
গতকাল সরেজমিনে দেখা গেছে, পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতে মাঠে নির্মাণকাজ করছেন শ্রমিকরা। তার পাশেই সেখানে শিশু-কিশোরদের খেলতেও দেখা যায়। একদিকে শ্রমিকরা ব্যস্ত ছিলেন কাজে, অন্যদিকে পাশেই শিশু-কিশোররা মত্ত ছিল ক্রিকেট খেলায়।
মাঠটির পাশেই বাসা ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া রায়হানের। ক্রিকেট খেলার ফাঁকে রায়হান দেশ রূপান্তরকে জানায়, গত চার মাস ধরে ওই মাঠে তাদের খেলতে দেওয়া হয়নি। তবে গত সোমবারের প্রতিবাদ সমাবেশের পর থেকে তারা সেখানে ক্রিকেট খেললেও কেউ বাধা দেয়নি।
নির্মাণকাজ চলাকালে মাঠটিতে ইউনিফর্ম পরিহিত প্রায় ১৫ জনের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও পুলিশের সদস্যদের দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দা রাকিবুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সোমবার প্রতিবাদ সমাবেশ করার পরও থানার সীমানা দেয়াল নির্মাণের কাজ বন্ধ করা হয়নি। গতকাল (সোমবার) সারা রাত কাজ চলেছে। আজও (গতকাল মঙ্গলবার) সকাল থেকে কাজ চলছে।’
তেঁতুলতলা মাঠ নিয়ে বিভ্রান্তিকর বিভিন্ন তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা চলছে বলে জানান ওই এলাকার আরেক বাসিন্দা আনিস আলম। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সাদা পোশাকেও বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য এখানে নিয়মিত অবস্থান করছেন। কিছু লোকজন এখানে আন্দোলন নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। তারা মিডিয়ায় বলার চেষ্টা করছেন যে এই জমি পুলিশকে দেওয়া না হলে অন্য কেউ দখল করে নেবে। আরও বলছে, যারা আন্দোলন করছেন তারা বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে টাকা নিয়ে এই আন্দোলন করছেন।’
মাঠে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা জানান, ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী তারা সেখানে অবস্থান করে নির্মাণকাজের তদারকি করছেন। তবে নির্মাণকাজে থাকা কোনো শ্রমিক কথা বলতে রাজি হননি।
মাঠটি লাগোয়া রাস্তার পাশে বালি, ইট ও সুরকি ফেলে রাখতে দেখা যায়। দেয়াল নির্মাণের জন্য রডের খাঁচি তৈরি করে রাখা হয়েছে। বালি, সুরকি ও সিমেন্ট মিশিয়ে রাখা হয়েছে, যা দিয়ে তোলা হবে দেয়াল। দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তারা তাদের ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
মাঠে ক্রিকেট খেলতে থাকা কিশোররা দেশ রূপান্তরকে বলে, ওই মাঠে কোনো ভবন উঠুক তা চায় না তারা। মাঠটি এলাকার শিশু-কিশোরদের জন্য বরাদ্দের দাবি জানায় তারা।
রাজধানীর পান্থপথে স্কয়ার হাসপাতালের উল্টো দিকের গলিতে তেঁতুলতলা মাঠটির অবস্থান। ছোট এই মাঠে এলাকার শিশু-কিশোররা খেলাধুলা করে। এছাড়া ঈদের নামাজ, স্থানীয় কেউ মারা গেলে তার জানাজা ও সামাজিক বিভিন্ন অনুষ্ঠান হয় সেখানে। এই জায়গাটি পুলিশ জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে বরাদ্দ নিয়ে কলাবাগান থানার ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেছে।
মাঠটি রক্ষার দাবিতে অনেক দিন ধরে আন্দোলন চলছিল। এরই মধ্যে গত রবিবার আন্দোলনকারী সৈয়দা রতœা মাঠে নির্মাণকাজের দৃশ্য ফেইসবুকে লাইভ করায় তাকে ও তার ছেলেকে বেলা ১১টার দিকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। তাদের কলাবাগান থানায় ১৩ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। পরে প্রতিবাদের মুখে মধ্যরাতে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। আর আন্দোলন না করার মুচলেকা নেওয়া হয় তাদের কাছ থেকে। এরপর মাঠটি রক্ষার দাবি জানিয়ে সরব হন সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। মাঠটি রক্ষার দাবি জানিয়ে বিশিষ্ট নাগরিকরাও দুটি আলাদা বিবৃতি দিয়েছেন।