যুদ্ধই এখন সবচেয়ে বড় ঝুঁকি : অর্থমন্ত্রী

আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে বাড়তে থাকা মূল্যস্ফীতি প্রশমনের দিকেই নজর দেবেন বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তবে এক্ষেত্রে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে গেলে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রাও সংশোধন করা হবে। গতকাল সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত কমিটির সভা শেষে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে গত মার্চ পর্যন্ত মূল্যস্ফীতির হার ৬ দশমিক ২২ শতাংশ, যা ১৭ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। যদিও সরকারি এই হিসাব বাস্তবতার বাইরে বলে মনে করেন দেশের অর্থনীতিবিদরা। পণ্যমূল্য বৃদ্ধির এমন পরিস্থিতিতে আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নে মূল্যস্ফীতি কমানোর দিকেই নজর দেবেন বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ৫ দশমিক ৫ শতাংশ ধরা হচ্ছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

গতকালের প্রেস ব্রিফিংয়ে আগামী বাজেটে ভর্তুকির চাপ কমাতে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারের দাম বাড়ানো হবে কিনা, সংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ভর্তুকি নয় মূল্যস্ফীতি ব্যবস্থাপনাই মুখ্য। কিন্তু যুদ্ধ (রাশিয়া-ইউক্রেন) থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। যুদ্ধই এ মুহূর্তে বড় ঝুঁকির বিষয়। যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে গেলে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা সংশোধন করা হবে। প্রয়োজনে আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছর এবং চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রাও সংশোধন করা হবে।

চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হারের লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ২ শতাংশ এবং আগামী অর্থবছরের জন্য তা ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ধরার পরিকল্পনা আছে সরকারের। অর্থমন্ত্রী বলেন, এ হার আগেই নির্ধারণ করা হয়েছিল। এখন পর্যন্ত তা ঠিক রাখা হয়েছে। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে গেলে এ লক্ষ্যমাত্রা সংশোধন করতে হবে।

আসন্ন বাজেটে ভর্তুকির চাপ প্রসঙ্গে মুস্তফা কামাল বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটের যে ঘাটতি রয়েছে আমরা মনে করি সেটা পূরণ করতে পারব। যদি কোনো প্রয়োজন না হয় তাহলে যেভাবে আছে সেভাবে আমরা পারব। আমরা পৃথিবীর কারও থেকে আলাদা নেই। সবার সঙ্গে একীভূত। তারপর আমরা ভালো অবস্থানে আছি। আমি মনে করি যুদ্ধ থেমে যাবে, এই মারামারি-হানাহানি বন্ধ হয়ে যাবে। এই বিশ্বাস নিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আমরা প্রজেকশন অনুযায়ী কাজ করছি। যদি কোনো প্রভাব পড়ে তাহলে আমরা সে অনুযায়ী কাজ করব। আশা করব কোনো রকমের সমস্যার সৃষ্টি যাতে না হয়।

গতকাল সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত কমিটির সভায় অনুমোদনের জন্য (টেবিলে একটি প্রস্তাবসহ) মোট ৯টি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের তিনটি, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের দুটি, শিল্প মন্ত্রণালয়ের দুটি, সুরক্ষা সেবা বিভাগের একটি এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের একটি প্রস্তাবনা ছিল। ক্রয় কমিটিতে ৯ প্রস্তাবের মধ্যে ৬টির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৫ হাজার ৬৮৬ কোটি ৭১ লাখ ২১ হাজার ৮৬ টাকা।

ক্রয় কমিটির সভায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়া ও সিঙ্গাপুর থেকে দুই লটে ৪ হাজার ৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টন জ্বালানি তেল ক্রয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কাতার ও মরক্কো থেকে ৪৯৯ কোটি ৮১ লাখ ৯৫ হাজার টাকায় ৬০ হাজার টন ইউরিয়া ও টিএসপি সার ক্রয়ের অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

অতিরিক্ত সচিব বলেন, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের অধীন পেট্রোবাংলার মাধ্যমে সিঙ্গাপুর  থেকে মাইক্রোসফট ভিটল এশিয়া পিটিই লিমিটেডের কাছ থেকে ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ এলএনজি সর্বমোট ৯৯১ কোটি ৭৬ লাখ ৮০ হাজার ৫০০ টাকায় আমদানির অনুমোদন দিয়েছে ক্রয় কমিটি।