হলমার্কের কেলেঙ্কারি সোনালী ব্যাংকের অগ্রগতি থামিয়ে দিতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. আতাউর রহমান প্রধান। তিনি বলেন, ‘এটি ব্যাংকের জন্য একটি বড় ধরনের ধাক্কা ও শিক্ষা ছিল। অনেকে ভেবেছিল ব্যাংকটি বোধহয় আর এগোতে পারবে না। কিন্তু তা ঘটেনি। সব প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এই ব্যাংকটি ঘুরে দাঁড়িয়েছে।’
গতকাল বুধবার সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা জানান আতাউর রহমান প্রধান। সোনালী ব্যাংক প্রতিষ্ঠার ৫০ বছরের অর্জন নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, হলমার্কের ঘটনায় বড় ধরনের ধাক্কা থেকে শিক্ষা নেওয়ার কারণে সোনালী ব্যাংকে আর কোনো বড় ধরনের ঘটনা ঘটেনি। হলমার্কের ঘটনার পর আমরা নানা রকম আইনি ব্যবস্থা নিয়েছি, এটি এখনো শেষ হয়নি। আদালতের রায়ের মাধ্যমে হলমার্কের যেসব সম্পদ আছে তা ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। এখন চিন্তা করছি এটি কীভাবে নিষ্পত্তি করা যায়।
তিনি বলেন, এখন আমরা দুটি বিষয় নিয়ে কাজ করছি। প্রথমত সম্পদ বিক্রি করে দেওয়া। দ্বিতীয়ত কোনো ইকোনমিক জোন করে কোনোভাবে কাজে লাগানো যায় কি না। চলতি বছর বা আগামী বছর হলমার্কের বিষয়ে একটা নিষ্পত্তি হবে। আশা করছি এখান থেকে তিন হাজার কোটি টাকা পাওয়া সম্ভব হবে।
প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, গত বছরের মার্চে সোনালী ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা ছিল ৪৩৩ কোটি টাকা। এটি চলতি বছরের মার্চে ৫৬৮ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে পরিচালন মুনাফা বৃদ্ধি পেয়েছে ১৩৫ কোটি টাকা।
মুনাফা বৃদ্ধির সঙ্গে ঋণের অঙ্কও বেড়েছে। চলতি বছরের মার্চ শেষে ঋণের অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ৭১ হাজার ৫৪৮ কোটি ৯১ লাখ টাকা। যা গত বছরের মার্চে ছিল ৬০ হাজার ২৭০ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে ঋণের অঙ্ক বেড়েছে ১১ হাজার ২৭৮ কোটি ৯১ লাখ টাকা।
এছাড়া আমানতের অঙ্কও বেড়েছে। চলতি বছরের মার্চ শেষে সোনালী ব্যাংকের আমানতের অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩১ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা, যা গত বছরের মার্চ শেষে ছিল ১ লাখ ২৬ হাজার ৮১৩ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে আমানত বেড়েছে চার হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা।
ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে সোনালী ব্যাংক কেন পিছিয়ে পড়ছে এমন প্রশ্নের জবাবে ব্যাংকটির এমডি বলেন, যদি দেখেন পাঁচ বছর আগে আমরা কোথায় ছিলাম আর এখন কোথায় আছি তাহলে বুঝতে পারবেন এর ব্যবধানটা। সোনালী ব্যাংক রাষ্ট্রের অন্যতম একটি বড় ব্যাংক। কোনো কাজ করতে গেলে ফরমালি করতে হয়। তিন বছর আগে এটিএম মেশিন ছিল ১০টি, এখন শতাধিক। তবে আগামী ২০২৩ সালের মধ্যে সব উপজেলায় একটি করে মেশিন বসানোর টার্গেট রয়েছে।