জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও কম্পোজার প্রীতম হাসান। তবে এবার ঈদে তিনি গান নিয়ে নয়, অভিনয় নিয়ে হাজির হচ্ছেন। সমসাময়িক বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন রণ। ছবি : শেখ সাদী
ব্যস্ততা...
ভেবেছিলাম ঈদের আগে খুব একটা ব্যস্ততা রাখব না। কিন্তু কদিন আগে দেশের বাইরে যাওয়ার কারণে বেশকিছু কাজ জমে গেছে। আমি যেহেতু মৌলিক গানের পাশাপাশি নিয়মিত জিঙ্গেল নিয়ে বেশি কাজ করি, তাই এসব কাজ খুব একটা জমিয়ে রাখা যায় না। ঈদের আগ দিন পর্যন্ত বিভিন্ন পণ্যের জিঙ্গেলের কাজ করতে হবে।
চেন্নাইয়ে ১৪ দিন...
এপ্রিলের শুরুর দিকেই চেন্নাইয়ে গিয়েছিলাম। ফিরেছি অল্প কিছুদিন হলো। সেখানে টানা ১৪ দিন ছিলাম। পুরো পরিবার সঙ্গে গিয়েছিল। মা, বড় ভাই (শিল্পী প্রতিক হাসান) ও তার স্ত্রী সবাই একসঙ্গে ঘুরেছি। মূলত মেডিকেল চেকআপের জন্যই যাওয়া। তার সঙ্গে ঘোরাঘুরি, খাওয়া-দাওয়াও ছিল। আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে সেখানকার মানুষদের। সেখানকার মানুষরা শিক্ষিত, সেটা তাদের কথাবার্তা আচার-আচরণে ফুটে ওঠে। আমরা যে বাংলাদেশ থেকে গেছি, তার জন্য কোনো অসুবিধাই হয়নি। তবে খাওয়া-দাওয়া নিয়ে একটু সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। কারণ বাঙালি আর সাউথ ইন্ডিয়ানদের খাবার-দাবার একেবারেই আলাদা। তারা খুব একটা ভাত খায় না। আর প্রায় প্রতিটি খাবারেই টক ব্যবহার করে। খাবার ছাড়া আর সবই ভালো লেগেছে।
নতুন গান...
আসলে আমার এক একটি গান করতে অনেক সময় লাগে। গানের প্রতিটি কাজই যেহেতু আমাকে করতে হয়, তাই সময়টা বেশি লাগে। সঙ্গে মিউজিক ভিডিও, প্রকাশনা সব মিলিয়ে অনেক ভাবনা চিন্তার বিষয় থাকে। এজন্য আমার মৌলিক গানের সংখ্যা অনেক কম। ঈদের এক সপ্তাহের মধ্যেই আমার ইউটিউব চ্যানেলে নতুন মিউজিক ভিডিও আসছে। কথা, সুর, কম্পোজিশন, গাওয়া সব আমার। আমার আগের গান ‘মরে যাক’-এর মতো করেই বানিয়েছি এটি। অনেকের মনে অনেক প্রশ্ন ছিল, এই গানে তার উত্তর পাবেন সবাই।
অভিনয়...
আমি প্রধানত গায়ক। কিন্তু অভিনয় করতে খুব ভালোবাসি। দিন দিন অভিনয়ের প্রতি আন্তরিকতা ও দায়িত্ব আরও বাড়ছে। গান কম করি বলে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের সামনে থাকার চেষ্টা করি, বিষয়টা কিন্তু তেমন নয়। অভিনয় উপভোগ করি বলেই কাজটি করছি। তবে অভিনয় করাটা আমার গানকে আরও বেশি সমৃদ্ধ করে বলেই মনে করি। কারণ, গানের কথা সাজানো, সুর ও কম্পোজিশনের মাধ্যমে তো আমরা একটা গল্প কিংবা অনুভূতিই ফুটিয়ে তুলি। অভিনয়ও তাই, এখানে হয়তো সংলাপ আর শারীরিক মুভমেন্টটা বেশি থাকে।
ওয়েব সিরিজ...
নুহাশ হুমায়ূনের ভৌতিক সিরিজ ‘ষ’র ‘নিশির ডাক’-এ আমি অভিনয় করেছি। ঈদে গান না থাকলেও আমার ভক্তরা অভিনয়ে আমার কাছ থেকে একেবারেই নতুন কিছু পাবেন বলে আশা করছি। কারণ এই কাজটি একেবারেই অন্যরকম। এমনিতেই আমাদের দেশে ভূতের গল্প সেভাবে হয় না। নুহাশ চেষ্টা করেছে একেবারেই বাঙালি ভূতের গল্প বাঙালি স্টাইলে বলতে। তার আগের কাজে হলিউড কিংবা বিদেশি কাজের ছায়া পেতাম। কিন্তু এই কাজে একেবারেই দেশীয় আমেজ আছে। আসলেই সে বহুমুখী নির্মাতা। আমার সহশিল্পী নভেরা রহমান দুর্দান্ত শিল্পী। তার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি, অনুপ্রাণিত হয়েছি।