বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবৃদ্ধি ১১ শতাংশ ছাড়িয়েছে

করোনা পরিস্থিতি উন্নতির দিকে থাকায় বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহে গতি এসেছে। চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত এক বছরে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১ দশমিক ২৯ শতাংশ। আগের মাস ফেব্রুয়ারিতে যা ছিল ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশ। অবশ্য বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে প্রবৃদ্ধি ছিল ১১ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ।

এদিকে গত বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক চলতি মূলধনে বিদ্যমান ঋণসীমা বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়ায় সামনের মাসে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবৃদ্ধি আরও ঊর্ধ্বমুখী হবে বলে আশা করছেন ব্যাংক কর্মকর্তারা। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের মুদ্রানীতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক আগামী জুন পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা প্রাক্কলন করেছে ১৪ দশমিক ৮০ শতাংশ। এর মধ্যে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ১১ শতাংশ। অবশ্য ডিসেম্বর পর্যন্ত বেড়েছিল ১০ দশমিক ৬৮ শতাংশ। গত অর্থবছরও প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন ছিল ১৪ দশমিক ৮০ শতাংশ। তবে অর্জিত হয় ৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, করোনার পর অনেক ক্ষেত্রে চাহিদা বেড়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে ঋণপ্রবৃদ্ধি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাক্কলনের কাছাকাছি যেতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, গত কয়েক বছর বিনিয়োগ চাহিদা কম ছিল। সাধারণভাবে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবৃদ্ধি দুই অঙ্কের ঘরে থাকলেও ২০১৯ সালের নভেম্বরে প্রথমবারের মতো তা নেমে আসে ৯ দশমিক ৮৭ শতাংশে। করোনাভাইরাসের প্রভাব শুরুর পর বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবৃদ্ধি ব্যাপক কমে ২০২১ সালের মে মাসে নামে ৭ দশমিক ৫৫ শতাংশে।

তবে করোনার প্রকোপ কমতে থাকায় গত অর্থবছরের শেষ মাস জুনে ঋণপ্রবৃদ্ধি খানিকটা বেড়ে ৮ দশমিক ৩৫ শতাংশে উঠে কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়। তারপর থেকে ঋণপ্রবাহ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। জুলাই ও আগস্টে এই সূচক ছিল যথাক্রমে ৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ ও ৮ দশমিক ৪২ শতাংশ।

সেপ্টেম্বরে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ৭৭ শতাংশে উন্নীত হয়। অক্টোবরে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ, নভেম্বরে ১০ দশমিক ১১ শতাংশ, গত বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১০ দশমিক ৬৮ শতাংশ। টানা আট মাস ধরে বাড়তে থাকায় চলতি ২০২২ সালের প্রথম মাস জানুয়ারিতে সূচকটি ১১ শতাংশ ছাড়িয়ে ১১ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশে উঠেছে। ফেব্রুয়ারিতে তা কিছুটা কমলেও মার্চে আবার বাড়তে দেখা যায় বেসরকারি খাতের ঋণ।