চেয়ারম্যানের নাম-ছবি দিয়ে ভিজিএফ কার্ড!

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নিজের নাম ও ছবি ব্যবহার করে তৈরি করা কার্ডের মাধ্যমে দুস্থদের জন্য সরকারের বরাদ্দ করা ভিজিএফ কর্মসূচির চাল বিতরণ করেছেন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) এক চেয়ারম্যান। ওই কার্ডে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক সংবলিত গ্রাম আদালতের মনগড়া সিলও ব্যবহার করেছেন তিনি। বানাইল ইউপি চেয়ারম্যান এবং মির্জাপুর উপজেলা ও টাঙ্গাইল জেলা ওলামা দলের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুন সিদ্দিকীর এমন কাণ্ডে ক্ষুব্ধ এলাকার লোকজন। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর স্থানীয় নেতাকর্মীরাও।

জানা গেছে, সরকার সারা দেশে ঈদ উপলক্ষে দুস্থদের মধ্যে ১০ কেজি করে ভিজিএফের চাল বিতরণ করছে। এর অংশ হিসেবে মির্জাপুর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ১৮ হাজার ২৮২ জন গরিব ও দুস্থ মানুষের মধ্যে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। বানাইল ইউনিয়নে ভিজিএফের এ চাল পাচ্ছে ১ হাজার ১২৮ দুস্থ মানুষ। সরকারের দেওয়া এ চাল চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল মামুন সিদ্দিকী নিজের নাম ও ছবি ব্যবহার করে তৈরি করা কার্ডের মাধ্যমে বিতরণ করছেন। শুধু তাই নয়, কার্ডের ওপর দাঁড়িপাল্লা প্রতীক সংবলিত গ্রাম আদালতের মনগড়া সিলও ব্যবহার করেছেন তিনি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ বলেন, ‘ভিজিএফের চাল বিতরণে আমার দেওয়া কার্ডটি একটি টোকেন মাত্র। চাল বিতরণে স্বচ্ছতার জন্য এটি করা হয়েছে।’

তবে এভাবে নিজের ইচ্ছেমতো কার্ড তৈরি করে ভিজিএফের চাল বিতরণের সমালোচনা করেছেন মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মীর শরীফ মাহামুদ। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ভিজিএফ দুস্থ ও অসহায়দের জন্য সরকারের একটি মানবিক উদ্যোগ। বানাইল ইউপি চেয়ারম্যান এভাবে কার্ড তৈরি করতে পারেন না।’ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে চেয়ারম্যানের পদ থেকে তাকে অপসারণের দাবিও করেন এই আওয়ামী লীগ নেতা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মির্জাপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গণি বলেন, ‘গ্রাম আদালতের কোনো লোগো (প্রতীক) আছে বলে আমার জানা নেই। বানাইল ইউপি চেয়ারম্যান সব জায়গায় দাঁড়িপাল্লার লোগো ব্যবহার করছেন বলে জেনেছি। এটা তিনি করতে পারেন না। এ ব্যাপারে মির্জাপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’