বঙ্গবন্ধু সেতু: ২৪ ঘণ্টায় পার হয়েছে ৫২২৭ মোটরসাইকেল

গত ২৪ ঘণ্টায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সেতু দি‌য়ে প্রায় ৩৩ হাজার ৭৩৪টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার ২২৭টি ছিল মোটরসাইকেল, যা পারাপার হওয়া মোট যানবাহনের ১৫ দশমিক ৪৯।

শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ মহাসড়কে খুব একটা যানজট দেখা যায়নি। তবে সকালের দিকে ক‌য়েকশত মোটরসাইকেল সেতু পারাপারের অপেক্ষায় থাকতে দেখা গিয়েছে। পরে উত্তরবঙ্গগামী মোটরসাইকেল পারাপারের জন‌্য দুটি লেন চালু করা হ‌য়।

বঙ্গবন্ধু সেতুর টোল প্লাজা সূত্র জানায়, গত ঘণ্টায় সেতু পার হওয়া যানবাহন থেকে টোল আদায় হয়েছে মোট ২ কোটি ৭৭ লাখ ২৯ হাজার ৫০০ টাকা।

গত বছর ১৩ এপ্রিল রোজার ঈদের সময় রেকর্ড ৫২ হাজার ৭৩০টি যানবাহন বঙ্গবন্ধু সেতু পার হয়েছিল। টোল আদায় হয়েছিল ২ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।

এদিকে ঈদে যানবাহনের চাপ স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক বেড়ে গেলেও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের টাঙ্গাইল অংশে শুক্রবার যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল।

বিকেল ৫টায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ব্যস্ত এই মহাসড়কে যানজট দেখা যায়নি।

একমুখী করে দেওয়ায় সেতুর পূর্ব সংযোগ সড়কের ১৩ কিলোমিটার সকাল ১০টার পর থেকে যানজট মুক্ত ছিল।

তবে ঢাকামুখী গাড়িগুলোর জন্য ভূঞাপুর রোড দিয়ে বাইপাস করে দেওয়ায় আঞ্চলিক মহাসড়কটিতে সারাদিনই থেমে থেমে যানজট ছিল। কখনও কখনও এই যানজট সেতুর উপর পর্যন্ত চলে যেতে দেখা যায়।

শেষ রাতে এবং সকালে বঙ্গবন্ধু সেতুর উভয় পাশের সংযোগ সড়কে তীব্র যানজট দেখা গেছে।

এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আতোয়ার রহমান আজ শুক্রবার বিকেলে বলেন, 'রাতে যানবাহনের চাপ প্রচুর বেড়ে যাওয়ায় ভোর থেকে সেতুর দুই প্রান্তে পূর্ব প্রান্ত থেকে টাঙ্গাইলের পৌলী পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার এবং পশ্চিম প্রান্ত হতে নলকা পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়।'

এ সময় কয়েকবার সেতুর টোল আদায় বন্ধ রাখতে হয় এবং পরে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যায় বলে জানান তিনি।

বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই মহাসড়কের টাঙ্গাইল শহর বাইপাস থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব প্রান্তের সংযোগ সড়কে ঘুরে দেখা যায়, অন্যান্য যানবাহনের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক মোটরসাইকেলে চেপে ছুটে চলছেন ঈদে ঘরমুখী মানুষ। অনেককে স্ত্রী–সন্তান, বড় ব্যাগসহ ঝুঁকি নিয়ে মোটরসাইকেলে চাপতে দেখা যায়।

কোনো কারণে যানজট হলেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে না থেকে মোটরসাইকেলে করে গন্তব্যে যাওয়া অনেক সহজ হয়। তাই কিছুটা ঝুঁকি থাকলেও ঈদের ছুটিতে অনেকেই এবার বাড়ি যাচ্ছেন মোটরসাইকেলে চড়ে।

বাংলাদেশ পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপরাধ) নুর ই আলম মিনা আজ সকালে মহাসড়ক পরিদর্শনে আসেন। কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে যানজট হয়নি। আশা করা যাচ্ছে, অন্য যেকোনো বছরের তুলনায় এবার স্বস্তিতে মানুষ বাড়ি ফিরতে পারবে।