মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ঈদুল ফিতরের ছুটিতে ঈদের দিন মঙ্গলবার ও পরদিন বুধবার সারা দিন পর্যটকদের ঢল নেমেছে। দুই দিনে পর্যটকের প্রবেশের টিকিট মূল্য বাবদ আড়াই লক্ষাধিক টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে। ঈদের দিন বৃষ্টি থাকায় পর্যটকের সংখ্যা কিছুটা কম হলেও ঈদের পরদিন বুধবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পর্যটকের ঢল নামে লাউয়াছড়ায়।
লাউয়াছড়া বন-বিট কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের দিন মঙ্গলবার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে প্রাপ্তবয়স্ক ১ হাজার ৭৬৩ জন ও ৬১১ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক পর্যটক প্রবেশ করেছেন। এতে ঈদের দিন রাজস্ব আয় হয়েছে ১ লক্ষ ১৭ হাজার ৮৮ টাকা। ঈদের পরদিন বুধবার লাউয়াছড়ায় প্রাপ্তবয়স্ক ২ হাজার ৮২৮ জন ও অপ্রাপ্তবয়স্ক ৭০৮ জন পর্যটক প্রবেশ করেন। এতে রাজস্ব আয় হয়েছে ১ লক্ষ ৫৭ হাজার ৯৮১ টাকা। ঈদের দুদিনেই লাউয়াছড়ায় প্রবেশমূল্য বাবদ আড়াই লক্ষাধিক টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে।
মঙ্গলবার সরেজমিনে লাউয়াছড়ায় দেখা যায়, উদ্যানে পর্যটকের ঢল নেমেছে। পর্যটকেরা বনের ভেতর প্রবেশ করে ঘোরাফেরা করছেন। অনেকে দল বেঁধে ঘুরছেন, ছবি তুলছেন। টিকিট কাউন্টারের সামনে লম্বা লাইন ধরে টিকিট কেনা চলছে। পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য টুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা অবস্থান করছে বনের ভেতরের রেললাইন ও বাইরের ফটক এলাকায়। বনের ভেতরে ঘুরে এসে পর্যটকেরা আনারস, কলা, লেবুর শরবতসহ নানা খাদ্যসামগ্রী কিনে খাচ্ছেন।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক শাহরিয়ার কবির, সিলেটের আবুল খায়ের নোমান শুভ ও রফিউল আলম তালুকদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, 'ঈদের দিন বৃষ্টি থাকায় কেউ বাইরে বের হইনি। শহরে রাতে সামান্য ঘোরাঘুরি করেছি। ঈদের পরের দিন বৃষ্টি না থাকায় চলে এসেছি প্রকৃতির রূপকে উপভোগ করতে। এর আগেও আসা হয়েছে লাউয়াছড়া উদ্যানে।'
লাউয়াছড়ার টিকিট কালেক্টর শাহীন আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত দুই বছর করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে ঈদের ছুটিতে লাউয়াছড়ায় তেমন পর্যটক আসেনি। তবে এবার দুদিনেই প্রচুর পর্যটকের আগমন হয়েছে। ঈদের এক সপ্তাহ প্রচুর পর্যটক আসবে বলে আমরা আশাবাদী।'
লাউয়াছড়া বন-বিট কর্মকর্তা মামুনুর রশীদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, 'পর্যটকের ঢল নেমেছে লাউয়াছড়ায়। দুদিনে পর্যটকদের প্রবেশমূল্য বাবদ আড়াই লক্ষাধিক টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে। পর্যটকের নিরাপত্তার স্বার্থে টুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি বন বিভাগের সদস্যরাও কাজ করছে।'
কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইয়ারদৌস হাসান বলেন, 'ঈদে কমলগঞ্জ উপজেলার সকল পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে ও কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য থানা পুলিশসহ টুরিস্ট পুলিশ সব সময় মাঠে আছে।’