খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) মামুনুর রশীদের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মো. নুরুজ্জামান সরদারের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী বালু ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এসিল্যান্ড ও সাংবাদিকদের দেওয়ার কথা বলে ৪০ হাজার টাকা নিয়েছেন উপজেলার খর্ণিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর বামুন্দিয়া ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নুরুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি কারও থেকে কোনো টাকা নিইনি। ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি করে বালুর কাজ করেছি। বালু ব্যবসায়ীরা আমার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ করছেন।’ এ সময় তিনি উল্টো অভিযোগ করেন, ‘ঠিকাদার সাইদুরুজ্জামান খান দুই নম্বর ইট দিয়ে রাস্তা করছেন। কয়েকবার বাধা ও সরকারি দপ্তরে জানিয়েছি। কেউ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ঠিকাদার বলেছেন, কাজের বিষয়ে ওপরমহল জানে, কোনো সমস্যা হবে না।’
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ২০২১-২২ অর্থবছরের ‘গ্রামীণ মাটির রাস্তসমূহ টেকসইয়ে হেরিং বনো বোন্ডের (এইচবিবি) দ্বিতীয় পর্যায়’ প্রকল্পের আওতায় খর্ণিয়া ইউনিয়নের বামুন্দিয়া গ্রামের পিচের সড়ক থেকে গাবতলা অভিমুখে এক হাজার মিটার সড়কের হেরিং কাজ চলছে। ৫৯ লাখ ৯ হাজার টাকার কাজটি বাস্তবায়ন করছে পাইকগাছা উপজেলার বাতিখালী এলাকার মেসার্স জনতা ট্রেডিং। চলতি বছর ২ ফেব্রুয়ারি কার্যাদেশ হয়। কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল গত ২ মে।
সড়কটি নির্মাণে ঠিকাদার কয়েকজনের সঙ্গে বালু নেওয়ার চুক্তি করেন। তারা পাচুড়িয়া গ্রামের বাবু নামে এক ব্যক্তির জমি থেকে বালু সড়কে দেন। বালুর কাজ শেষে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা নুরুজ্জামান তাদের কাছে ৪০ হাজার টাকা দাবি করেন। এ টাকা বালু উত্তোলনের জন্য এসিল্যান্ড ও সাংবাদিকদের আগাম দিয়েছেন বলে তিনি ব্যবসায়ীদের জানান।
বালু ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের বালি (বালু) দিয়া শেষ হয়ে গেছে, চলে আসব। ঈদের তিন দিন আগে নুরুজ্জামান বললে, “তোরা ৪০ হাজার টাকা দে”। কেন দেব জানতে চাইলে সে বললে, “তোরা এই যে সুষ্ঠুভাবে বালির কাজ করতি পারিছিস তা আমার জন্যে। আমি এসিল্যান্ডকে ৩০ আর সাংবাদিকদের ১০ হাজার টাকা দিছি”। আমরা কত হাত-পায় ধরলাম পাঁচটা হাজার টাকা কম নেও, নিল না। খুব খারাপ ব্যবহার করল। সে নেতা মানুষ, তাই বাধ্য হয়ে ৪০ হাজার টাকা দিতি হলো।’ আরেক ব্যবসায়ী মো. আশরাফুল আলম বলেন, ‘নুরুজ্জামান কলেন বালি তুলার জন্য ৪০ হাজার টাকা দিতি হবি। আমরা কলাম আমাদের তো টাকা দিয়ার কথা না। তখন তিনি কলেন, তা কলি হবে না, তোদের টাকা দিতি হবে। কারণ তিনি গ্যাটিত (পকেট) থেকে ৪০ হাজার টাকা দিয়ে আইছেন। তিনি কলেন, ওই দেখ একটি কালো গাড়ি আইয়েছে, ওডা এসিল্যান্ডের গাড়ি। কার গাড়ি তা জানিনে, এহন ১০ হাজার টাকা দিয়ে আসলাম।’
এ বিষয়ে এসিল্যান্ড মামুনুর রশীদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি কাউকে রাস্তা নির্মাণের জন্য আমাকে টাকা দিতে বলিনি। নুরুজ্জামান কেন মিথ্যা বলছেন, তা খতিয়ে দেখব। অভিযোগের সত্যতা পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে স্থানীয়রা বলছেন, সড়ক নির্মাণে এক নম্বর ইট ব্যবহারের কথা। কিন্তু ঠিকাদার দেড় ও দুই নম্বর ইট ব্যবহার করছেন। এতে সড়কটি দ্রুত নষ্ট হয়ে যাবে। ইউনিয়নের পাঁচপোতা এলাকার সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ইট গাড়ি থেকে নামাতে গিয়েই ভেঙে যাচ্ছে। বসানোর পর কী হবে তা তো বোঝাই যাচ্ছে। এভাবে কাজ করলে অল্পদিনেই রাস্তাটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়বে। সরকারি অর্থ পানিতে যাবে।’
ঠিকাদার সাইদুরুজ্জামান খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সবকিছুর দাম বেড়ে গেছে। এজন্য এক ও দেড় নম্বর ইট দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এখানে কোনো দুই নম্বর ইট ব্যবহার হচ্ছে না।’
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আশরাফ হোসেন বলেন, ‘আগেও কয়েকজন ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। আমি তাদের বাজে ইট সরাতে বলেছি। এখন ফের সরেজমিন গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’