বাংলাদেশের ঋণ শোধে আরও এক বছর সময় পেল শ্রীলঙ্কা

চরম আর্থিক সংকটে পড়া শ্রীলঙ্কাকে দেওয়া ২০ কোটি ডলার ঋণ পরিশোধের জন্য আরও এক বছর সময় বাড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। এই মুহূর্তে ঋণ ফেরতের সম্ভাবনা না থাকায় সময় বাড়িয়ে দেওয়া হয়। ফলে এ অর্থ ফেরত দিতে আগামী বছরের জুন পর্যন্ত সময় পাবে দেশটি।

গতকাল রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক, ডেপুটি গভর্নর ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের নির্বাহী পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের একটি সূত্র জানায়, এখন শ্রীলঙ্কার পক্ষে ঋণ শোধ করা সম্ভব নয়। এ কারণে চাপাচাপি করে কোনো লাভ নেই। ঋণ পরিশোধে আরও এক বছর সময় বাড়ানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও সেন্ট্রাল ব্যাংক অব শ্রীলঙ্কার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় কারেন্সি সোয়াপ চুক্তির আওতায় দেশটির অনুকূলে তিন দফায় ২০ কোটি ডলার ছাড় করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে দেশটির সরকারের গ্যারান্টি রয়েছে। তিন মাস মেয়াদি কারেন্সি সোয়াপ হলেও চুক্তিতে এক বছর পর্যন্ত বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। ফলে তিন মাস পরপর এক বছর পর্যন্ত এ ঋণের মেয়াদ এমনিতেই বাড়বে। এ ক্ষেত্রে লন্ডন আন্তঃব্যাংক অফার রেট বা লাইবরের সঙ্গে দেড় শতাংশ সুদ পাবে বাংলাদেশ। অর্থ ছাড়ের পর থেকে সুদ ও পরিশোধের সময় হিসাব করা হবে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফায় গত বছর ১৯ আগস্ট ৫ কোটি ডলার ছাড় করে বাংলাদেশ ব্যাংক। দ্বিতীয় দফায় ১০ কোটি ডলার দেওয়া হয় ৩০ অক্টোবর। বাকি ৫ কোটি ডলার দেওয়া হয় নভেম্বরে। শ্রীলঙ্কাকে দেওয়া ঋণের পরিমাণ সব মিলিয়ে বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ হাজার ৭২৪ কোটি টাকা। যে অর্থ যেদিন ছাড় হয়েছে, ওইদিন থেকে মেয়াদ হিসাব হবে। ফলে বিদ্যমান চুক্তির আওতায় চলতি বছরের জুনের মধ্যে সুদসহ অর্থ ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগের সময়ের সঙ্গে আরও এক বছর যুক্ত হবে এখন। তাছাড়া দেশটিকে দেওয়া এ অর্থ প্রকৃতপক্ষে ঋণ না হওয়ায় খেলাপি হওয়ার বিষয়টিও আমলে নিতে হচ্ছে না বাংলাদেশ ব্যাংককে।

সংকটকবলিত শ্রীলঙ্কার মোট বিদেশি ঋণের পরিমাণ ৫১ বিলিয়ন বা ৫ হাজার ১০০ কোটি ডলার। সম্প্রতি দেশটি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সহায়তা পাওয়ার আগপর্যন্ত এ ঋণের পুরোটাই খেলাপি থাকবে। এ সংকটের শুরু হয়েছে বেশ কয়েক মাস আগেই। বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা মেটাতে গত বছর শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশের শরণাপন্ন হয়। ২০ কোটি ডলার ধার দিয়ে সে সময় বন্ধুপ্রতিম দেশটির পাশে দাঁড়ায় বাংলাদেশ।

‘কারেন্সি সোয়াপ’ ব্যবস্থায় নেওয়া ওই ধার পরিশোধের কথা ছিল তিন মাসের মধ্যে। লাইবর রেটের সঙ্গে ২ শতাংশ যোগ করে সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছিল।

অর্থনীতি পুনরুদ্ধার কর্মসূচি গঠন এবং জরুরি তহবিল বরাদ্দের আবেদন নিয়ে আইএমএফের দ্বারস্থ হয়েছে শ্রীলঙ্কা। একটি ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে তারা। ভারত ও চীনের কাছেও সহায়তা চেয়েছে দেশটির সরকার।

জানা গেছে, গত বছর ১৯ মার্চ মুজিব চিরন্তন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে ঢাকায় আসেন। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেন তিনি। সেই বৈঠকের পরিপ্রেক্ষিতে শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর ডব্লিউ ডি লক্ষ্মণ বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে ডলার চেয়ে চিঠি দেন। এরপর কয়েকটি প্রক্রিয়া শেষ করে দেশটিকে ডলার ধার দেয় বাংলাদেশ।