যশোরে সাংবাদিক শিকদার খালিদকে কুপিয়ে জখম

পূর্ববিরোধের জের ধরে দেশ রূপান্তরের যশোর জেলা প্রতিনিধি শিকদার খালিদকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে শহরতলির বিরামপুর কালীতলায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি জানাজানি হয়। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

খালিদ দেশ রূপান্তর ছাড়াও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, একুশে টেলিভিশনের  যশোর জেলা প্রতিনিধি ও স্থানীয় দৈনিক লোকসমাজ পত্রিকার বার্তা সম্পাদক।

যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি তাজুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় যশোর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা হয়েছে। এতে হাঁস লিটন, তার স্ত্রী জাহানারা ও সহযোগী তৌহিদকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে; লিটনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম জানায়নি পুলিশ।

হাসপাতালে শিকদার খালিদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিরামপুর কালীতলার মৃত আব্দুল জলিল মোল্লার ছেলে লিটন ওরফে হাঁস লিটনের সঙ্গে তার পূর্ববিরোধ রয়েছে। শুক্রবার রাতে লিটন জরুরি কথা আছে বলে মোবাইলে ফোন করে আমাকে তার বাড়ি যেতে বলেন। পরে সেখানে যাই এবং বাড়ির ছাদে কথা বলার এক পর্যায়ে লিটনের নেতৃত্বে সহযোগী টাইলস মিস্ত্রি তৌহিদ আমার ওপর আচমকা আক্রমণ করেন।’

খালিদ আরও জানান, হাঁস লিটন ধারালো দা দিয়ে তাকে কুপিয়ে জখম করেন। আর তৌহিদ লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। জখম হয়ে পড়ে গেলে লিটনের স্ত্রী জাহানারা তার কাছে থাকা নগদ ৫০ হাজার টাকা ও একটি স্যামসাং মোবাইল ফোন সেট কেড়ে নেন। এ ছাড়া তৌহিদ তার গলায় থাকা ১২ আনা ওজনের একটি সোনার চেইন ছিনিয়ে নেন।

যশোর প্রেস ক্লাবের সম্পাদক এস এম তৌহিদুর রহমান চিকিৎসকের বরাতে জানান, শিকদার খালিদের মাথায় মারাত্মক আঘাত হয়েছে। তার একটি পা ভেঙে গেছে। শরীরে অনেকগুলো আঘাতের চিহ্ন রয়েছে; অবস্থা সংকটজনক।

সাংবাদিকদের নিন্দা, প্রতিবাদ : সাংবাদিক শিকদার খালিদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে যশোর প্রেস ক্লাব। যশোর প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন ও সম্পাদক এস এম তৌহিদুর রহমান এক বিবৃতিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

যশোর সাংবাদিক ইউনিয়ন (জেইউজে) এক বিবৃতিতে দৈনিক লোকসমাজের বার্তা সম্পাদক শিকদার খালিদকে হত্যাচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সংগঠনের সভাপতি ফারাজী আহমেদ সাঈদ বুলবুল ও সাধারণ সম্পাদক এইচআর তুহিনসহ নেতৃবৃন্দ দ্রুততম সময়ের মধ্যে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।