কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীদের ‘স্বতন্ত্র’ প্রস্তুতি

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়েছে। এর পর থেকেই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হাফ ডজন নেতা কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে লবিং করছেন বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থীরা স্বতন্ত্র ব্যানারে নির্বাচনে অংশ গ্রহণের মাঠে নেমেছেন। সব মিলিয়ে জমে উঠেছে কুসিক নির্বাচনের আবহ।

বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তাদের দল সরাসরি কুসিক নির্বাচনে অংশ নেবে না। তবে দলের একাধিক প্রার্থী স্বতন্ত্র ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন।

দুই দলের প্রত্যাশীরা অনলাইনেও সরব হয়ে উঠেছেন। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কর্মী-সমর্থকেরা তাদের নেতাকে মনোনয়ন দেয়ার জন্য দলের সভানেত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। বিএনপির নেতাদের কর্মী-সমর্থকেরা তাদের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন।  

জানা যায়, ঈদের আমেজের সঙ্গে সঙ্গে কুমিল্লা নগরজুড়ে এখন ভোটের আমেজ। নগরবাসী ঈদ উৎসবের পাশাপাশি ভোট উৎসবে মেতে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কুসিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এবারের ঈদুল ফিতর আনন্দের সঙ্গে জমজমাট হয়ে উঠছে নির্বাচনী উৎসব। সম্প্রতি কুসিক নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে সর্বত্র একই আলোচনা কে হতে যাচ্ছেন কুসিকের তৃতীয় মেয়র।

এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন পেতে সম্ভাব্য হাফ ডজন প্রার্থী নানা কৌশলে নগরীতে প্রচারণা শুরু করেছেন। রমজানে ইফতার পার্টি, দুস্থদের মাঝে ইফতার ও ঈদ সামগ্রী বিতরণ করে দোয়া চেয়েছেন প্রার্থীরা। অনেকে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন।

এদিকে এ নির্বাচনে বিএনপি দলীয় ব্যানারে অংশ নিবে না এটা অনেকটা নিশ্চিত হলেও বিএনপি সমর্থিত বর্তমান মেয়র মনিরুল হক সাক্কু স্বতন্ত্র ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন। এ ছাড়া বিএনপি থেকে আরও একাধিক প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেয়ার কথাও শোনা যাচ্ছে।  

২০১১ সালের ৬ জুলাই কুমিল্লা পৌরসভা ও সদর দক্ষিণ পৌরসভার মোট ২৭টি ওয়ার্ড নিয়ে সিটি করপোরেশন গঠিত হয়। ২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত প্রথম নির্বাচনে বিএনপি থেকে পদত্যাগ করে নাগরিক কমিটির ব্যানারে নৌকার প্রার্থী অধ্যক্ষ আফজল খানকে হারিয়ে প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মো. মনিরুল হক সাক্কু। পরে ২০১৭ সালের ৩০ মার্চ বিএনপির মনোনয়নে সাক্কু নৌকার প্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমাকে হারিয়ে ২য় বারের ন্যায় কুসিকের মেয়র নির্বাচিত হন।

কুসিক নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন পেতে দলের শীর্ষ পর্যায়ে লবিংসহ বিভিন্নভাবে আলোচনায় রয়েছেন কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, কুমিল্লা জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আরফানুল হক রিফাত।

দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন, আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক নূর-উর রহমান মাহমুদ তানিম, আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক উপকমিটির সদস্য মাসুদ পারভেজ খান ইমরান, মহানগর যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান মিঠু ও শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক কবিরুল ইসলাম শিকদারসহ আরো কয়েকজন। সকলেই আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।

নির্বাচনে অংশ গ্রহণের বিষয়ে কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক রিফাত বলেন, মহানগর আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীরা আমাকে চায়, কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় এবং ২৭ টি ওয়ার্ড কমিটি একক প্রার্থী হিসেবে আমার নাম প্রস্তাব করা হয়েছে, আশা করি দল আমাকে মূল্যায়ন করবে।

এদিকে বর্তমান সরকারের অধীনে বিএনপি স্থানীয় সরকারের কোন নির্বাচনে অংশ নেবে না এটা দলের সিদ্ধান্ত থাকলেও কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়েই মেয়র পদে একাধিক প্রার্থী অংশ নেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

এ বিষয়ে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান মেয়র মনিরুল হক সাক্কু বলেন, নির্বাচনে আমাদের দল (বিএনপি) অংশগ্রহণ না করলেও আমার অনুসারী নেতা কর্মী, নগরবাসী ও সমর্থকদের অনুরোধে স্বতন্ত্র ব্যানারে আমি নির্বাচন করবো।

কুমিল্লা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মঞ্জুরুল আলম বলেন, তফসিল ঘোষণার পর থেকেই আমাদের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে, এরই মাঝে নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডের পৃথক ভোটার তালিকা প্রণয়ন করাসহ নির্বাচনের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। বর্তমানে এ সিটিতে ২ লাখ ৩২ হাজার ৬৩০ জন ভোটার রয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ১৪ হাজার ৪৮৮ জন পুরুষ এবং ১ লাখ ১৮ হাজার ১৪২ জন মহিলা।