স্থানীয় বস্ত্রশিল্প খাতে রপ্তানি প্রণোদনা বা নগদ সহায়তা পাওয়ার শর্ত শিথিল করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন থেকে এ খাতের রপ্তানি করা পণ্যে ন্যূনতম ২০ শতাংশ স্থানীয় মূল্য সংযোজন করলেও মিলবে রপ্তানি ভর্তুকি বা নগদ প্রণোদনা। আগে এই হার ছিল ন্যূনতম ৩০ শতাংশ।
গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ এ সংক্রান্ত নির্দেশনায় পরিবর্তন এনে একটি সার্কুলার জারি করে। আগে বস্ত্র খাতের ১০০ টাকার ফিনিশড পণ্যের মধ্যে ৭০ টাকার আমদানি করা কাঁচামাল ব্যবহার করে ৩০ শতাংশ মূল্য সংযোজন করে রপ্তানি করলেই কেবল প্রণোদনা পাওয়া যেত। এখন ২০ টাকা মূল্য সংযোজন করেও রপ্তানি ভর্তুকি পাওয়া যাবে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, চলতি ২০২১-২০২২ অর্থবছরে বস্ত্র খাতে বিদ্যমান হারে রপ্তানি প্রণোদনা বা নগদ সহায়তা প্রদানে স্থানীয় মূল্য সংযোজন ন্যূনতম ২০ শতাংশ প্রযোজ্য হবে। ২০২১-২০২২ অর্থবছরে জাহাজিকৃত রপ্তানি চালানের বিপরীতে দাখিল করা অনিষ্পন্ন আবেদনগুলোসহ এ সার্কুলার জারির তারিখ থেকে পরবর্তী সময়ে দাখিলযোগ্য আবেদনের ক্ষেত্রে এ নির্দেশনা কার্যকর হবে।
সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে রপ্তানিমুখী দেশীয় বস্ত্র খাতে শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাকের পরিবর্তে বিকল্প নগদ সহায়তা খাতে ৪ শতাংশ নগদ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাতের (নিট, ওভেন ও সোয়েটার) অন্তর্ভুক্ত সব ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের অতিরিক্ত ৪ শতাংশ নগদ সহায়তা মিলছে। নতুন পণ্য বা নতুন বাজার (বস্ত্র খাত) সম্প্রসারণ সহায়তা বাবদ ৪ শতাংশ নগদ সহায়তাও পাওয়া যাচ্ছে। ইউরো অঞ্চলে বস্ত্র খাতের রপ্তানিকারকদের বিদ্যমান ৪ শতাংশের অতিরিক্ত বিশেষ সহায়তা হিসেবে ২ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দেওয়া হয়। তৈরি পোশাক খাতে বিশেষ নগদ সহায়তা রয়েছে ১ শতাংশ।