ফিলিপাইনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এগিয়ে মার্কোসপুত্র

ফিলিপাইনের জাতীয় নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন দেশটির সাবেক স্বৈরশাসক ফার্দিনান্দ ইমানুয়েল এড্রালিন মার্কোসের ছেলে এবং প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র (বংবং)। দীর্ঘ ২০ বছর তার পিতা দেশটিকে শক্ত হাতে শাসন করেছিলেন। দমন-পীড়ন ও দুর্নীতির জন্য কুখ্যাত ছিল তার শাসনামল। তবে সেখান থেকে যেন মার্কোসের পরিবার নতুন রূপে ফিরেছে ফিলিপাইনের সমসাময়িক রাজনীতিতে।

গতকাল সোমবার স্থানীয় সময় রাত ১০টা পর্যন্ত ফিলিপাইনের কমিশন অন ইলেকশন্সের অনানুষ্ঠানিক গণনায় মার্কোস জুনিয়র ২ কোটি ৩০ লাখ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ও ভাইস প্রেসিডেন্ট লেনি রোব্রেডোর চেয়ে তিনি দ্বিগুণের বেশি ভোট পেয়েছেন। রোব্রেডোর পেয়েছেন ১ কোটি ৯ লাখ ভোট। প্রাপ্ত ভোটের ৭০.২৮ শতাংশ ব্যালট পেপার গণনা করে এ ফলাফল জানানো হয়। ওই অনানুষ্ঠানিক গণনায় আরও দেখা যায়, প্রেসিডেন্ট পদের জন্য দাঁড়ানো সিনেটর ম্যানি পাকুয়া ২১ লাখ ৫২ হাজার ৫৭৯, ম্যানিলার মেয়র ফ্রান্সিসকো ইসকো ১৪ লাখ ৮৫ হাজার ৩০ এবং সিনেটর পানফিলো পিং পেয়েছেন ৭ লাখ ৮৭১ ভোট।

ভাইস প্রেসিডেন্টের পদে এগিয়ে আছেন দাভো শহরের মেয়র সারা দুতার্তে কার্পিও। তিনি এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা) ১ কোটি ৮৬ লাখ ভোট পেয়েছেন বলে জানিয়েছে কমিশন অন ইলেকশন্স। তার নিকটবর্তী প্রতিদ্বন্দ্বী সিনেটর কিকো পাঙিলিয়ান পেয়েছেন ৬০ লাখ ভোট। মার্কোস জুনিয়র ও দুতার্তে কার্পিও জোট বেঁধে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছিলেন।

একসময় ফিলিপাইনের ক্ষমতায় মার্কোস পরিবারের ফিরে আসা অচিন্ত্যনীয় ছিল। কিন্তু বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে থাকা মার্কোস জুনিয়র সেই সম্ভাবনাকে প্রবল করে তুলেছেন। প্রায় ৩৬ বছর আগে তার পিতাকে ক্ষমতাচ্যুত করে জনতার এক বিপ্লব। এরপর পুরো মার্কোস পরিবারকে নির্বাসনে কাটাতে হয়েছিল দীর্ঘকাল। ভোটের বর্তমান ফলাফলে চলতি বছর ভোটপূর্ব জনমতের অনেকটাই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। এসব জরিপে সাবেক সিনেটর ও কংগ্রেস সদস্য মার্কোস জুনিয়র তার প্রতিপক্ষ রোব্রেডোর চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে ছিলেন। ১৯৮৬ সালে স্বৈরশাসক মার্কোসকে ক্ষমতাচ্যুত করা জোটের শরিক ছিলেন রোব্রেডো। দেশ থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর ১৯৯০-এর দশকে নির্বাসন থেকে ফিরে আসেন মার্কোস পরিবারের সদস্যরা। এরপর থেকেই তারা স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ও জোরালো ভূমিকা রাখতে শুরু করেন। এক্ষেত্রে তাদের মূল সহায়ক শক্তি হয়েছেÑ বিপুল সম্পদ এবং বিভিন্ন প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক।

দেশটিতে স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ৬টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ভোটগ্রহণ চলে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত। এর আগে লাখ লাখ মানুষ কেন্দ্রে হাজির হন তাদের পছন্দের নেতাকে বেছে নিতে। এবার রেকর্ড পরিমাণ ৬ কোটি ৭০ লাখ ভোটার তাদের পছন্দের প্রেসিডেন্টকে বেছে নেন। সোমবারের ভোটে বিজয়ী প্রার্থী আগামী ছয় বছর দেশ পরিচালনা করবেন। এই নির্বাচনে দেশটির প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট, ১২ সিনেটর, নিম্নকক্ষের ৩০০ সদস্য এবং মেয়র, গভর্নরসহ ১৮ হাজার কর্মকর্তা নির্বাচিত হবেন। প্রত্যেক ভোটারকে অবশ্যই প্রতিটি পদের জন্য একজন প্রার্থী নির্বাচন করতে হবে, প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং সিনেটর থেকে শুরু করে তাদের স্থানীয় জেলা কাউন্সিলরদের পর্যন্ত। প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং সিনেটর ছাড়া বাকিরা তিন বছরের জন্য নির্বাচিত হবেন।