আজিমপুর কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত কে জি মোস্তফা

রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন গীতিকার ও সাংবাদিক কে জি মোস্তফা। গতকাল সোমবার বেলা ৩টার দিকে তার মরদেহ সমাহিত করা হয়। এর আগে আজিমপুর নিউ পল্টন কলোনীর শাহি মসজিদ এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবে তার দুই দফা জানাজা হয়।

গত রবিবার রাত ৮টার দিকে আজিমপুরে নিজ বাসায় অসুস্থ বোধ করলে কে জি মোস্তফাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনি ও হৃদরোগে ভুগছিলেন।

গতকাল সোমবার সকালে শাহি মসজিদে প্রথম জানাজা শেষে দুপুরে লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়িতে কে জি মোস্তফার মরদেহ প্রেস ক্লাবে নিয়ে আসা হয়। পরে সেখানে তার দ্বিতীয় জানাজা সম্পন্ন হয়। জানাজায় ইমামতি করেন মাওলানা মনিরুজ্জামান। অংশগ্রহণ করেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, সহসভাপতি কবি হাসান হাফিজ, যুগ্ম সম্পাদক মাইনুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ শাহেদ চৌধুরী, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি ওমর ফারুক, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি এম আবদুল্লাহ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সোহেল হায়দার চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি মুরসালিন নোমানী, কবি এরশাদ মজুমদার প্রমুখ। জানাজা শেষে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে কে জি মোস্তফার কফিনে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয়।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান বলেন, ‘তার লেখা গানগুলো হাজার বছর টিকে থাকবে। প্রেস ক্লাবকে তিনি খুব ভালোবাসতেন।’

জানাজার আগে বাবার জন্য দোয়া কামনা করেন কে জি মোস্তফার ছোট ছেলে খোন্দকার রউফুল ইসলাম রনি। পরে তার মরদেহ দাফনের উদ্দেশে আজিমপুর কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।

‘তোমারে লেগেছে এত যে ভালো চাঁদ বুঝি তা জানে...’ এবং ‘আয়নাতে ওই মুখ দেখবে যখন...’ কালজয়ী এ গান দুটির গীতিকার তিনি। ১৯৩৭ সালের ১ জুলাই নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে কে জি মোস্তফার জন্ম। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন তিনি। শিক্ষানবিশ সাংবাদিক হিসেবে ১৯৫৮ সালে তার হাতেখড়ি দৈনিক ইত্তেহাদে।