বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় আসানি মোকাবিলায় উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটের প্রশাসন প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
ঝড়ের পূর্বাভাস পেয়ে উপকূলীয় জেলার জেলেরা নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরতে শুরু করেছেন। জেলেরা বাগেরহাট শহরের প্রধান কেবি মাছ বাজার ঘাটে ট্রলার রেখে অবস্থান করছেন।
দুর্যোগের সময় যাতে নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষ নিরাপদে আশ্রয় নিতে পারে সে জন্য ২৩৪টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও খোলা রাখা হবে, যেন দরকার হলে সেখানেও মানুষ আশ্রয় নিতে পারে। জেলার ৯১ ভাগ জমির পাকা ধান কেটে ঘরে তুলেছে কৃষক। বাকি ৯ ভাগ ধান দু-এক দিনের মধ্যে কেটে কৃষক ঘরে তুলতে পারবে বলে বলে আশা কৃষি বিভাগের।
অন্যদিকে, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোংলা বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই চলছে বন্দরে অবস্থান নেয়া জাহাজে পণ্য ওঠা-নামার কাজ।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার মো. ফকরউদ্দিন বলেন, মোংলা বন্দরে বর্তমানে দেশি-বিদেশি চারটি জাহাজ অবস্থান করছে। জাহাজে পণ্য ওঠা-নামার কাজ চলছে। ঝড়ের সিগনাল না বাড়া পর্যন্ত বন্দরের সব কাজ স্বাভাবিক নিয়মে চলবে।
মোংলা বন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলার পর বন্দরের সব নৌযান নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এছাড়া মোংলার কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর ছোটবড় জাহাজগুলোকে বন্দরের অভ্যন্তরে রাখা হয়েছে।
বাগেরহাট জেলা মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি শেখ ইদ্রিস আলী বলেন, ঘূর্ণিঝড় আসানির পূর্বাভাস পেয়ে জেলেরা কুলে ফিরেছে। আর যারা এখনো ফিরতে পারেননি তারা পাশের নদী-খালে নিরাপদে আশ্রয় নিয়েছে। জেলেরা আগের থেকে এখন অনেক সচেতন। তবে এই জেলেরা যখন গভীর সমুদ্রে থাকে তখন হঠাৎ দুর্যোগ আসলে তারা কোনো খবর পায় না। সম্প্রতি হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়ে ১০ জন জেলের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। তাই সাগরে মাছ ধরা জেলেদের সঙ্গে যোগাযোগের আধুনিক ব্যবস্থা করতে সরকারের কাছে দাবি জানান এই মৎস্যজীবী নেতা।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান এই প্রতিবেদককে বলেন, আবহাওয়া বিভাগ ঘূর্ণিঝড় অসানির পূর্বাভাস জারির পর তা মোকাবিলায় প্রশাসন প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির এক জরুরি সভা করা হয়েছে। জেলা ও উপজেলাগুলোতে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। দুর্যোগের সময় যাতে স্থানীয় লোকজন আশ্রয় নিতে পারে সে জন্য জেলার ৩৪৪ টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট উপজেলার স্কুল ও কলেজগুলো খুলে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় নগদ ১৭ লাখ টাকা ও ৫৮৬ মেট্রিক চাল বরাদ্দ রয়েছে। ঝড়ের প্রভাবে অতিবৃষ্টি হলে যাতে সেই পানিতে নিচু এলাকায় জলাবদ্ধ না হতে পারে সে জন্য নদী-খালের স্লুইসগেট পর্যবেক্ষণ করতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
বাগেরহাটের কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক আজিজুর রহমান বলেন, চলতি মৌসুমে বাগেরহাট জেলায় ৫৯ হাজার ২ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের চারটি কম্বাইন্ড হারভেস্টর, ৯৭টি রিপার দিয়ে জমি মালিকদের ধান কেটে দিতে সহযোগিতা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে জেলার ৯১ ভাগ জমির পাকা ধান কেটে ঘরে তুলেছেন কৃষক। দুর্যোগে ক্ষতি হতে পারে তেমন কোনো ফসল বর্তমানে মাঠে নেই। আর যা আছে তা রক্ষা করতে স্ব স্ব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা চাষিদের পরামর্শ দিচ্ছেন।