দুই বছর পর আবারও উচ্চ প্রবৃদ্ধিতে বাংলাদেশ

মহামারী করোনা ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব কাটিয়ে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি আবারও ৭ শতাংশের ঘর অতিক্রম করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছর শেষে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ হবে বলে ধারণা দিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো  (বিবিএস)। এ ছাড়া বছর শেষে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার বেড়ে দাঁড়াবে ৪৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৩৯ লাখ ৭৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

গতকাল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর  (বিবিএস) এই হিসাব তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। গত মার্চ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক সূচকের বিশ্লেষণ করে জিডিপির সাময়িক হিসাব প্রাক্কলন করেছে বিবিএস।

মহামারী করোনার আগের চার অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি ৭ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করে। তবে করোনার প্রভাবে ২০১৯-২০ অর্থবছরে তা ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশে নেমে আসে। তবে পরের বছর জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশে উন্নীত হয়। করোনার প্রকোপ কমে আসার মধ্যেই রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধ সব দেশেই নেতিবাচক প্রভাব রাখছে। ফলে বিভিন্ন দেশের প্রবৃদ্ধি সংকোচনের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে যুদ্ধের মধ্যেও দেশের রপ্তানি আয়সহ অন্যান্য সূচক ভালো থাকায় ৭ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জনের আশা করছে সরকার। 

২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৭ দশমিক ১১, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৭ দশমিক ২৮, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৭ দশমিক ৮৬ ও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করে বাংলাদেশ। দুই বছর পর আবারও এমন উচ্চ প্রবৃদ্ধির আশা করছে বিবিএস।

বিবিএসের হিসাব অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছর শেষে প্রবৃদ্ধি হবে ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ, গত বছর শেষে যা ছিল ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ। এ ছাড়া বছর শেষে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার বেড়ে দাঁড়াবে ৪৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৩৯ লাখ ৭৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এ ছাড়া ২০১৯-২০ অর্থবছরে জিডিপির আকার ছিল ৩৭৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২০-২১ মার্চ পর্যন্ত ৬ দশমিক ৯৪, জিডিপির আকার ৪১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা টাকার পরিমাণে ৩৫ হাজার ৩০২ লাখ। এ বছর বিনিয়োগ-জিডিপির অনুপাত ৩১ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

বছর শেষে এই প্রবৃদ্ধি আরও বাড়ার আশা করে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ। করোনার এই পরিস্থিতিতে জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার অনেক ভালো। মার্চ পর্যন্ত ৭ দশমিক ২৫ হলে জুন শেষে এটা আরও বাড়তে পারে, ৭ দশমিক ৫ শতাংশও হতে পারে। আগামী সেপ্টেম্বর নাগাদ জিডিপির চূড়ান্ত হিসাব পাওয়া যাবে।

বিবিএসের তথ্যানুযায়ী, কৃষি খাতের ২০২১-২২ অর্থবছরে সাময়িক হিসাবে শতকরা ২ দশমিক ২০ ভাগ প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছে। এর মধ্যে শস্য উপখাতে শতকরা ১ দশমিক ০৬, পশুপালন উপখাতে শতকরা ৩ দশমিক ১০, বন উপখাতে শতকরা ৫ দশমিক ৮ ও মৎস্য খাতে শতকরা ২ দশমিক ৮ ভাগ প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছে। ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের প্রবৃদ্ধি পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ১২ দশমিক ৩১ শতাংশ প্রাক্কলন করা হয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যুৎ খাতে ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ ও নির্মাণ খাতে ৮ দশমিক ৯৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছে। সার্বিকভাবে শিল্প খাতে গত অর্থবছরের (২০২০-২১) তুলনায় ২০২১-২২ অর্থবছরে ১০ দশমিক ৪৪ ভাগ প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছে।

চলতি অর্থবছরে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসা খাতে ৮ দশমিক ৭২, যানবাহন খাতে ৫ দশমিক ৭০, ব্যাংক ও বীমা খাতে ৭ দশমিক ৬০, শিক্ষা খাতে ৬ দশমিক ২৩ ও স্বাস্থ্য খাতে ৯ দশমিক ৭৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছে। সার্বিকভাবে সেবা খাতে গত অর্থবছরের (২০২০-২১) তুলনায় ২০২১-২২ অর্থবছরে ৬ দশমিক ৩১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছে।

বিবিএসের হিসাব বলছে, এই অর্থবছরে চলতি মূল্যে জিডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ৩৯ লাখ ৭৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বা ৪৬৫ বিলিয়ন ডলার। গত অর্থবছরে জিডিপির আকার ছিল ৩৫ লাখ ৩০ হাজার ২০০ কোটি টাকা বা ৪১৬ বিলিয়ন ডলার।