কূপ খনন করতে গিয়ে মাটিচাপায় দুই শ্রমিকের মৃত্যু

টাঙ্গাইলের পৌর এলাকার আশেকপুরে কূপ খনন করার সময় মাটিচাপা পড়ে দুজন নিহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, বাসাইল উপজেলার কাশিল পাল পাড়ার নিধন পাল (৩৫) ও আনন্দ পাল (৪৫)। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গতকাল সকালে দুই শ্রমিক পৌরসভার ১৫নং ওয়ার্ড আশেকপুর পূর্বপাড়া এলাকার নজরুল মিয়ার বাসার সেপটিক ট্যাঙ্ক খনন করছিলেন। এ সময় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। কূপ ১০ ফুট খননের এক পর্যায়ে চারপাশ থেকে মাটি পড়ে ওই দুই শ্রমিক চাপা পড়েন। পরে খবর পেয়ে টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশের নিকট হস্তান্তর করে। পুলিশ মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে।

পরিবারে শোকের মাতম : নিধন পাল (৩৫) ও আনন্দ পালের (৪৫) মৃত্যুতে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার কাশিল পাল পাড়া এলাকায় দুই পরিবারে চলছে শোকের মাতম।

নিহত শ্রমিক নিধন পালের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, স্ত্রী বীণা রানী পাল দুই কন্যা দীপা রানী পাল (৬) ও নীপা রানী পাল (৭ মাস)কে নিয়ে বিলাপ করছেন। তিনি বলেন, এ জগতে আমার আর কেউ রইল না। এই ছোট দুটি মেয়েকে নিয়ে কীভাবে আমি সংসার চালাব।

নিহত শ্রমিক আনন্দ পালের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, গর্ভবতী স্ত্রী গোলাপী রানী পাল দফায় দফায় মূর্ছা যাচ্ছে। তিন মেয়ে কনিকা রানী পাল (১৯), অর্পিতা রানী পাল (১২) ও দীপা রানী পাল (৮)কে নিয়ে আমি কোথায় গিয়ে দাঁড়াব বলে বিলাপ করছে গোলাপী। কনিকা রানী পাল কাশিল কেবিএন বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবে।

কনিকা রানী পাল বলেন, আমার বাবাই আমাদের পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর আমাদের পরিবারে অন্ধকার নেমে এসেছে। সামনে আমার এসএসসি পরীক্ষা। বাবার মৃত্যুতে আমার পড়ালেখারও মৃত্যু হলো।

কাশিল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মির্জা রাজিক বলেন, ওই দুই শ্রমিক চুক্তিভিত্তিক সেপটিক ট্যাঙ্ক খনন করতেন। তাদের উপার্জনেই চলত পরিবার দুটি। তাদের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুটি পরিবারকেই আগামীতে সরকারি বিভিন্ন অনুদানের আওতায় আনা হবে।