যুবদলের কমিটি শিগগিরই আলোচনায় ১৬ নেতা

আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মূল দল বিএনপির পাশাপাশি এর অঙ্গসংগঠনগুলোকেও ঢেলে সাজানো হচ্ছে। যার অংশ হিসেবে সম্প্রতি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ঘোষণা করা হবে যুবদল কেন্দ্রীয় সংসদের কমিটি। তবে যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি আর হচ্ছে না। গতকাল মঙ্গলবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যুবদলের সহসভাপতি ও সহসম্পাদকদের সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভার্চুয়াল বৈঠক শেষে এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক নেতা।

তবে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি যুবদলের বর্তমান কমিটির সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু এবং সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি, জ্যেষ্ঠ সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদককে।

এদিকে নতুন কমিটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আসতে অনেকেই প্রচারণা চালাচ্ছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সংগঠনের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু, সহসভাপতি আব্দুল খালেক হাওলাদার, জাকির হোসেন সিদ্দিকী, এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, মোনায়েম মুন্না, জাকির হোসেন নান্নু,জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক নূরুল ইসলাম নয়ন, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান, দপ্তর সম্পাদক কামরুজ্জামান দুলাল ও সহসাধারণ সম্পাদক কামাল আনোয়ার আহম্মেদ। এ ছাড়া সংগঠনের বাইরে ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিম, হাবিবুর রশীদ হাবিব ও আকরামুল হাসান, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন ও ইসহাক সরকার রয়েছেন আলোচনায়।

দীর্ঘ সাত-আট বছর ধরে পদহীন সাবেক ছাত্রদল নেতারা চেয়েছিলেন আগে যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হোক। কারণ তারা মনে করেন, বর্তমান কমিটিতে যে পদই পাওয়া যাক না কেন পরে আবার উচ্চপদে যাওয়া যাবে। আর কমিটি পূর্ণাঙ্গ না হলে নতুন করে আবার পদ পাওয়ার জন্য লড়াই করতে হবে। তাই তাদের দাবি, অল্প সময়ের জন্য হলেও স্বেচ্ছাসেবক দলের মতো যুবদলেরও পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হোক। এতে করে দীর্ঘদিন ধরে পদহীন থাকা ছাত্রদলের সাবেক নেতাদের সাংগঠনিক পরিচয় নিশ্চিত হবে।

তারেক রহমানের সঙ্গে গতকালের বৈঠকে অংশ নেওয়া এক নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে আমাদের যে ওয়ান টু ওয়ান বৈঠক হয়েছে তাতে মনে হয়েছে যুবদলের নতুন কমিটি হবে। সেই কমিটি শিগগিরই ঘোষণা করা হবে। বৈঠকে সংগঠনের ৫১ জন সহসভাপতি ও যুগ্ম সম্পাদক অংশ নিয়েছি। বৈঠকে ওয়ান টু ওয়ান মতামত নেওয়া হয়।’

যুবদলের দপ্তরের কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া ভার্চুয়াল বৈঠকে প্রথমে সহসভাপতিদের সঙ্গে এক এক করে (ওয়ান টু ওয়ান) কথা বলেন তারেক রহমান। রাত সোয়া ৮টা পর্যন্ত সহসভাপতিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর শুরু হয় সহসাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠক।

বৈঠকের বিষয়ে যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশে আমরা যুবদলের প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি জমা দিয়েছি। এরই মধ্যে আবার সংগঠনের সহসভাপতি ও সহসাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি বৈঠক করছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। এখন পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে, নাকি নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে, সে বিষয়ে তিনিই সিদ্ধান্ত নেবেন। আমাদের কমিটির মেয়াদ ছিল তিন বছর, সেখানে ইতিমধ্যে পাঁচ বছরের বেশি পার হয়ে গেছে।’

তারেক রহমানের সঙ্গে যুবদল নেতাদের বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘দলের হাইকমান্ড যে সিদ্ধান্ত নেবে তাকেই আমরা স্বাগত জানাব। তিনি (তারেক রহমান) যদি আমাকে আবার দায়িত্ব দিতে চান, আমি দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত।’

নতুন কমিটির বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুবদলের এক নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যুবদলের মতো সংগঠন সারা দেশে চালাতে রানিং কমিটির একজন অভিজ্ঞ নেতাকে এর আগে নতুন কমিটিতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সে হিসেবে যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে সভাপতি করা হলে সংগঠন চালানো সহজ হবে। এর আগে সাইফুল আলম নীরব সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, পরবর্তী কমিটিতে তাকে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তারও আগে সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, পরে তাকে যুবদলের সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।’

২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি সাইফুল আলম নীরবকে সভাপতি ও সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে সাধারণ সম্পাদক করে যুবদলের ৫ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপর ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ২৭১ সদস্যের প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি দলীয় ফোরামে জমা দেয় সংগঠনটি। পরে কমিটির মেয়াদ শেষে ২০২০ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি যুবদলের ১১৪ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। সর্বশেষ সম্পূরক হিসেবে গত ৪ এপ্রিল ৩৫১ সদস্যের প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি দলীয় ফোরামে জমা দেয় যুবদল। পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার আগেই যুবদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করছেন তারেক রহমান।

ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণার আগে বিগত কমিটির নেতাদের সঙ্গেও ওয়ান টু ওয়ান বৈঠক করেছিলেন তারেক রহমান। ছাত্রদলের বিগত কমিটির নেতারা জানিয়েছিলেন, গত ১৭ এপ্রিল ছাত্রদলের ৫ সদস্যের নতুন আংশিক কমিটি গঠনের আগেও সদ্যবিলুপ্ত কমিটির ( শীর্ষ পাঁচ নেতা বাদে ৬০ সদস্যের বাকিদের) প্রত্যেকের আলাদাভাবে মতামত নেন সংগঠনটির সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান। এরপর শীর্ষ পাঁচ নেতার সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি। উভয় বৈঠকে নেতারা ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবকের ওপর নতুন কমিটি গঠনের ব্যাপারে সর্বময় ক্ষমতা অর্পণ করেন। পরে ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।