আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিএনপি তার আগের অবস্থানই জানাল। আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভার পর নির্বাচনে বিএনপির আসা না আসার বিষয়টি আবার আলোচনায় আসে। দলটি তার স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানিয়েছে গতকাল মঙ্গলবার।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেছি, বর্তমান অবৈধ শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে বিএনপি কোনো নির্বাচনে যাবে না। এর মধ্যে এতটুকু ফাঁকফোকর নেই। নির্বাচনের আগে সরকারকে বিদায় নিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে হবে। সেই নিরপেক্ষ সরকার নিরপেক্ষ কমিশন গঠনের (ইসি) পর একটি, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।’
গত শনিবার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় বিএনপিকে নির্বাচনে আনা ও ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হয়। পরদিন বিএনপি নেতারা অনানুষ্ঠানিকভাবে সংবাদমাধ্যমের কাছে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানালেও তারা বলেছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা করে আনুষ্ঠানিকভাবে বক্তব্য জানানো হবে। গত সোমবার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠক হয়। গতকাল রাজধানীর নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলো তুলে ধরা হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ^র চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
সংবাদ সম্মেলনে আগামী সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে ইভিএমে ভোটগ্রহণের সক্ষমতা ইসির নেই প্রধান নির্বাচন কমিশনারের এমন বক্তব্য সম্পর্কে জানতে চান সাংবাদিকরা। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ইসি যা বলার বলে দিয়েছে। এখানে আমাদের তেমন বলার কিছু আছে বলে মনে হয় না। এই সরকার সচেতনভাবে, অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা, গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে।’
‘নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় বিএনপি নির্বাচনে আসবে’আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে তাকে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল।
ঈদের পরে আন্দোলন বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের সবকিছুই আন্দোলনের অংশ, আমরা যা কিছু করছি তাই আন্দোলন। আন্দোলন বলতে আপনারা কি বোঝেন তা জানি না, আমরা যারা আন্দোলন করি তারা বুঝি আন্দোলন মানেই জনগণকে সম্পৃক্ত করা। সন্ত্রাসী কর্মকা-ের বিরুদ্ধে কর্মসূচি দিয়েছি, এটাও আন্দোলনের কর্মসূচি। জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে যে কর্মসূচি দিয়েছি সেটাও আন্দোলনের কর্মসূচি।’ সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘অস্থির হবেন না, আপনারা যেটা দেখতে চান সেটা খুব শিগগিরই দেখতে পাবেন।’
সয়াবিন তেলের দাম বাড়ার বিষয়ে ফখরুল বলেন, ‘এই সরকারের পরিবর্তন হলে দ্রব্যমূল্যসহ সবকিছুই মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে আসবে, নিয়ন্ত্রণ হবে।’
শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতি থেকে বর্তমান সরকারের শিক্ষা নেওয়া উচিত কি না জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই সরকার শিক্ষা নিতে জানে না, যদি জানত তাহলে এই ১০ বছরে শিক্ষা নিতে পারত। শ্রীলঙ্কাতে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়েছে সবাই, আর এরা বঙ্গোপসাগরে ঝাঁপিয়ে পড়বে।’
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আজকে ১০ মে আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া ১৯৮৪ সালের এই দিনে দলের চেয়ারপারসনের পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব লাভ করেছিলেন। সারাটা জীবন ধরেই তিনি গণতন্ত্রের জন্য, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য গণতন্ত্রের পক্ষে সংগ্রাম করেছেন, লড়াই করেছেন। এখনো তিনি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বিগত কয়েক বছর ধরে কারান্তরীণ আছেন। এখন তিনি গৃহবন্দি থেকেও গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করে চলেছেন।’
এদিকে গণমাধ্যমে পাঠানো বিএনপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উচ্চ মাত্রার সিসার বিষক্রিয়ায় শিশুর মৃত্যুহারে বাংলাদেশ বিশে^ চতুর্থ স্থানে আসায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। এ ছাড়া রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ) ২০২২ সালের প্রকাশিত বিশ^ সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা সূচকে গত বছরের তুলনায় ১০ ধাপ পিছিয়ে ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৬২তম হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি দুর্নীতির মামলায় দ-প্রাপ্ত আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্যের বিদেশ ভ্রমণে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। তারা মনে করেন, এই ঘটনা থেকে প্রমাণিত হয় যে, এই রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠানকেই দলীয়করণ করা হচ্ছে।