রানার অটোমোবাইলসের ২১ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি

অটোমোবাইল খাতের প্রতিষ্ঠান রানার অটোমোবাইলসে গোয়েন্দা অভিযান চালিয়ে ৭০ কোটি ৪৭ লাখ টাকার বিক্রয়ের গোপন তথ্য উদঘাটন করেছে ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। এ পরিমাণ বিক্রয় তথ্য গোপন করায় ২০ কোটি ৮৬ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ভ্যাট আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ক্রেতার অভিযোগের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভ্যাট গোয়েন্দা বিভাগ। ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংস্থার সহকারী পরিচালক মো. হারুন অর রশিদেও নেতৃত্বে রানার অটোমোবাইলস লিমিটেডের তেজগাঁওয়ের প্রধান কার্যালয় অভিযান পরিচালনা করে।

জানা গেছে, ভ্যাট গোয়েন্দাদের অভিযানে প্রতিষ্ঠানটির মাসিক দাখিলপত্রে প্রকৃত বিক্রয় তথ্য গোপন করে ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ পাওয়া যায়। পরিদর্শনের শুরুতে কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট সংক্রান্ত ও বাণিজ্যিক দলিলাদি প্রদর্শনের জন্য অনুরোধ করা হলে প্রতিষ্ঠানের সিএফও শনদ দত্ত ভ্যাট কর্মকর্তাদের চাহিদা অনুসারে ভ্যাট দলিল উপস্থাপন করেন। ভ্যাট ফাঁকির আলামত থাকায় প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন স্থানে রাখা কিছু বাণিজ্যিক ও মূসক সংশ্লিষ্ট দলিলাদি জব্দ করা হয়। এসব তথ্য ভ্যাট দলিলাদির সঙ্গে ব্যাপক অসামঞ্জস্য পাওয়া যায়।

তদন্তে দেখা গেছে, ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে প্রতিষ্ঠানটি ১ হাজার ৮৩৪ কোটি ৪৯ লাখ ৮২ হাজার টাকার পণ্য বিক্রি করেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি মাসিক রিটার্নে মোট ১ হাজার ৭৬৪ কোটি ২ লাখ ৩৩ হাজার টাকা বিক্রয় হিসাব প্রদর্শন করেছে। রিটার্ন ও প্রকৃত বিক্রয়ের পার্থক্য পাওয়া যায় ৭০ কোটি ৪৭ লাখ ৪৮ হাজার ৬৬১ টাকা। এ ক্ষেত্রে প্রকৃত বিক্রয় তথ্য গোপন করে ১৫ কোটি ৫৯ লাখ ৫৭ হাজার ২৭৬ টাকা ভ্যাট ফাঁকি হয়েছে। এ ফাঁকির ওপর ভ্যাট আইন অনুসারে মাস ভিত্তিক ২ শতাংশ হারে ৫ কোটি ২৬ লাখ ৯ হাজার ৩৯৫ টাকা সুদ প্রযোজ্য হবে। সব মিলিয়ে ২০ কোটি ৮৫ লাখ ৬৬ হাজার ৬৭১ টাকার ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ফাঁকি দেওয়া ভ্যাট আদায়সহ আইনানুগ পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য প্রতিবেদনটি সংশ্লিষ্ট ঢাকা উত্তর ভ্যাট কমিশনারেটে প্রেরণ করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

রানার অটোমোবাইলস লিমিটেড একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি। এই প্রতিষ্ঠানের অধীন একটি কারখানা, একটি বাণিজ্যিক আমদানিকারক এবং একাধিক শো-রুম আছে। বাণিজ্যিক আমদানিকারক হিসেবে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানটি মোটরসাইকেল এবং থ্রি হুইলার আমদানি করে কোনোরূপ পরিবর্তন না করে গ্রাহকের কাছে বিক্রি করে। কারখানা হিসেবে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানটি মোটরসাইকেল সিকেডি অবস্থায় আমদানি করে তা সংযোজন করে সরবরাহ করে। কারখানা থেকে করপোরেট গ্রাহক, ডিলার ও নিজস্ব শো-রুমে পণ্য বিক্রয় করে প্রতিষ্ঠানটি।