ফ্রিল্যান্সিং থেকে ১০ বিলিয়ন ডলার আয় করা সম্ভব : সালমান

দেশের ফ্রিল্যান্সারদের অর্জিত অর্থ পুরোটা এখনো অফিশিয়াল চ্যানেলে আসছে না। যোগাযোগ ও কাজের দক্ষতা বাড়াতে পারলে ২০২৬ সালের মধ্যে এই খাতের বৈদেশিক আয় ১০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।

গতকাল জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ) আয়োজিত ‘আইসিটি ফ্রিল্যান্সিং ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সালমান এফ রহমান বলেন, এনএসডিএর মূল কাজ হলো দক্ষতা বাড়ানো। সরকারি এই প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণ ও সার্টিফিকেট নিয়ে কাজ করলে ২০২৬ সালের মধ্যে দেশের ফ্রিল্যান্সাররা ১০ বিলিয়ন ডলার আয় করতে পারবেন। তা সম্ভব হলে পোশাক খাতের পর এটিই হবে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খাত।

এই খাতের কিছু প্রতিবন্ধকতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ফ্রিল্যান্সারদের কোনো নিয়োগপত্র না থাকায় কোনো ব্যাংক তাদের ঋণ দিতে চাইত না। সামাজিকভাবে কোনো স্বীকৃতিও ছিল না। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। ব্যাংকগুলোর কাছে অনুরোধ, যাদের সরকারি সনদ আছে, তাদের ঋণ দেওয়া সহজ করেন।

গ্র্যাজুয়েশন করেও অনেকে বেকার থাকছেন প্রসঙ্গে সালমান এফ রহমান বলেন, ‘আনএমপ্লয়মেন্ট (বেকারত্ব) কোথায় আছে? যারা ইউনিভার্সিটি থেকে ডিগ্রি নিয়েছেন, তারা এখন বসে সরকারকে বলছেন চাকরি দেন। তারা ডিগ্রি নেওয়ার আগে চিন্তা করেননি কোন দিকে ক্যারিয়ার গড়বেন? ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, অ্যাকাউনট্যান্ট যারা, তারা ডিগ্রি নিয়ে চাকরি পাচ্ছেন, কোনো অসুবিধা তো হচ্ছে না। আমাদের আননেসেসারি ইউনিভার্সিটি থেকে ডিগ্রি নিয়ে অনেকে চাকরি পাচ্ছেন না। আরেকটা সমস্যা হচ্ছে, গ্র্যাজুয়েট হওয়ার পর অন্য কোনো কাজ করতে পারছি না। তারা ওই ধরনের একটি কাজ প্রত্যাশা করছেন। এ সমস্যা নিয়ে আমরা অনেক কাজ করছি। সবাই যেন কাজ করতে পারেন। একই সঙ্গে ফ্রিল্যান্সিংটাও যেন ভালোভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি, সেদিকে নজর দেওয়া হচ্ছে।’

ফ্রিল্যান্সিংয়ে আয় বাড়ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ‘ফ্রিল্যান্সারদের সব সমস্যা সমাধান করেছি। এখন তো সমস্যার কথা কেউ বলছে না। ফ্রিল্যান্সাররা বর্তমানে এক বিলিয়ন ডলার আয় করছেন। আমরা ৪০০ মিলিয়ন ডলার অফিশিয়ালি পেয়েছি। প্রথমে টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে আনা যেত না। বিদেশি আত্মীয়দের কাছ থেকে নিতে হতো। আমরা ফ্রিল্যান্সারবান্ধব পরিবেশ তৈরি করেছি। অনেকে ২০৪১ সালের কথা বলছেন, ওই সময়ে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় হবে। তবে আমরা বলছি, এত দিন অপেক্ষা করা লাগবে না। আমি আশাবাদী, ফ্রিল্যান্সিংয়ে ২০২৫-২৬ সালে ১০ বিলিয়ন ডলার আয় করতে পারব।’

ফ্রিল্যান্সিং এখন দেশের যেকোনো স্থান থেকে করা সম্ভব জানিয়ে তিনি বলেন, ফাইবার অপটিক ব্যাকবোন প্রতিটি ইউনিয়ন পর্যন্ত সরকার দিয়েছে। যাতে ঘরে বসে ফ্রিল্যান্সাররা কাজ করতে পারেন। ওয়ার্কস্পেস নিয়ে তাদের বিদ্যমান সমস্যাটি বেশিদিন আর থাকবে না।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম বলেন, ফ্রিল্যান্সারদের অবকাঠামোগত উন্নয়ন খুব জরুরি। প্রতিটি জেলায় একটি করে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তৈরি করতে হবে। সরকার ইতিমধ্যে প্রতিটি স্কুলে ডিজিটাল ল্যাব দিয়েছে। বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ৭০ হাজার ফ্রিল্যান্সারকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এ খাতের উদ্যোক্তারা সহজে যাতে ঋণ পান, সে জন্য সরকার ভেঞ্চার ক্যাপিটালের অনুমোদন দিয়েছে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধে বাংলাদেশ ফ্রিল্যান্সার ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ডা. তানজিবা রহমান বলেন, ফ্রিল্যান্সিংয়ে জড়িত ৭০ শতাংশই তরুণ। দেশে ৭৫ শতাংশ বেকার তরুণ আছেন, তাদের মধ্যে ৪০ শতাংশ যদি ফ্রিল্যান্সিং করেন তাহলে দেশ আরও এগিয়ে যাবে। গ্লোবাল মার্কেটিংয়ের আকার দিন দিন বাড়ছে।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম। জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান (সচিব) দুলাল কৃষ্ণ সাহা এতে সভাপতিত্ব করেন। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের জেনারেল ম্যানেজার মো. মেজবাউল হক, বুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহফুজুল ইসলাম প্রমুখ।