ক্রেতা দেশগুলোর অনুরোধে পাম অয়েলের রপ্তানি শুল্ক প্রায় অর্ধেক কমাতে যাচ্ছে মালয়েশিয়া। আগামী জুন মাসের মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে পারে। সেটি হলে মালয়েশিয়া থেকে পাম অয়েল আমদানির পরিমাণ যেমন বাড়বে, তেমনি দামও কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইন্দোনেশিয়ার অনুপস্থিতিতে বিশে্ব ভোজ্য তেলের বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করার চেষ্টা করছে বিশে্বর দ্বিতীয় বৃহত্তম পাম উৎপাদক মালয়েশিয়া। এ লক্ষ্যে পাম অয়েলের রপ্তানি শুল্ক অর্ধেকে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে দেশটি।
মালয়েশিয়ার বৃক্ষরোপণ শিল্প ও ভোগ্যপণ্যমন্ত্রী জুরাইদা কামরুদ্দিন এক সাক্ষাৎকারে রয়টার্সকে বলেছেন, তার মন্ত্রণালয় থেকে মালয়েশীয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে এই রপ্তানি শুল্ক কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য এরই মধ্যে একটি কমিটি গঠন করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। তিনি জানান, মালয়েশিয়ায় পাম অয়েল রপ্তানিতে বর্তমানে ৮ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়। সেটি কমিয়ে ৪ থেকে ৬ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আগামী জুন মাসের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন জুরাইদা।
ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে সূর্যমুখী তেল সরবরাহে বিঘ্ন ও পাম অয়েল রপ্তানিতে ইন্দোনেশিয়ার নিষেধাজ্ঞার কারণে বৈশি^ক সরবরাহ ব্যবস্থায় যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার সুযোগ নিয়ে বিশ্ববাজারে নিজেদের অংশ বাড়াতে চায় মালয়েশিয়া। জুরাইদা বলেন, ‘এই সংকটের সময় আমরা বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করতে পারি, যেন আরও বেশি পাম অয়েল রপ্তানি করা যায়।’ প্রস্তাবে মালয়েশিয়ার বৃহত্তম পাম অয়েল উৎপাদক এফজিভি হোল্ডিংসসহ বিদেশি ওলিওকেমিক্যাল উৎপাদনকারী সংস্থাগুলোর জন্য শুল্কছাড়ের বিষয়টি আরও সুবিধাজনক করার কথা বলা হয়েছে বলে জানান মালয়েশীয় এ মন্ত্রী।