বিশেষ প্রয়োজন থাকলে অনুমতি নিয়ে সরকারি কর্মকর্তারা বিদেশ ভ্রমণে যেতে পারবেন বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সরকারের প্রকল্প বাস্তবায়নে কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
একই সঙ্গে আমদানিনির্ভর কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প উন্নয়নের কাজও স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। মূলত বিদেশি মুদ্রা ব্যয়ের লাগাম টানতে এসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
গতকাল বুধবার অর্থনৈতিক বিষয় ও ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এখন যেসব সরকারি কর্মকর্তা বিদেশ যাচ্ছেন, তাদের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে অনেক আগে। তবে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, প্রয়োজন না থাকলে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর আর নয়। কাউকে কোনো বিশেষ কারণে যদি প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয়, তারা অনুমতি সাপেক্ষে বিদেশে যাবেন। অন্যথায় যাবেন না। এটা কমানো হচ্ছে।’
সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক দামি গাড়ি ও বিলাসপণ্যে এলসি মার্জিন বাড়িয়েছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রাব্যয়ে লাগাম টানার ইঙ্গিত আছে। সরকার শঙ্কিত কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মুস্তফা কামাল বলেন, ‘বিষয়টি সহজ। সময় যখন কঠিন, সিদ্ধান্তও কঠিন নিতে হবে। বর্তমানে বিশ্বের পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়। আমাদের বিশ্বের সঙ্গে একীভূত হয়ে কাজ করতে হবে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই মুহূর্তে আমাদের বিলাসপণ্যের বিশেষ প্রয়োজন নেই। সেগুলো আমরা চাইলে দুই, তিন কিংবা ছয় মাস পরও কিনতে পারি। বিলাসপণ্য আমদানি না করলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি বন্ধ হবে না। আমরা সময়কে কার্যকরভাবে ম্যানেজ করতে চাই। এখন করোনা নেই। শুধু যুদ্ধের প্রভাব বিশ্বে ছড়িয়ে গেছে।
আমরা সবাই এটা নিয়ে কষ্ট পাচ্ছি। বৈশ্বিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত কঠিন কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। তবে কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার মানে এই নয় যে, দেশের অর্থনীতির চাকা বন্ধ হয়ে যাবে। উন্নয়ন বন্ধ হয়ে যাবে।’
এখন দামি গাড়ি ও নিত্যব্যবহার্য ইলেকট্রনিক পণ্য আমদানির ঋণপত্র খোলার সময় ৭৫ শতাংশ অর্থ অগ্রিম জমা দিতে হবে। এ ছাড়া শিশুখাদ্য, খাদ্যপণ্য, জ্বালানি, ওষুধ, কৃষি ও রপ্তানিমুখী শিল্প ছাড়া সব আমদানিতে ৫০ শতাংশ অর্থ অগ্রিম দিতে হবে। আগে ২৫ শতাংশ অর্থ জমা দিয়েই এসব পণ্য আমদানি করা যেত। আর ১১ এপ্রিলের আগে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে যেকোনো পরিমাণ এলসি মার্জিন নির্ধারণ করতে পারত ব্যাংক। বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভে চাপ কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংক এখন আমদানি বিশেষ করে বিলাসপণ্যের আমদানি নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিচ্ছে।
গতকাল বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘যেসব প্রকল্পের সঙ্গে বিদেশি মুদ্রা ব্যয়ের বিষয় রয়েছে, সেসব উন্নয়ন প্রকল্প এখন না করে ছয় মাস পরে করলেও আমাদের কোনো ক্ষতি হবে না। দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি ও জিডিপিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। আর দেশের অর্থনীতির কোনোভাবেই ক্ষতি হবে না। সেগুলো পিছিয়ে দেওয়া হবে। তবে বাতিল হবে না।’
২০২১-২২ অর্থবছরে মাথাপিছু আয় বেড়ে ২ হাজার ৮২৪ ডলারে উঠবে। মোট জাতীয় উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হবে ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর বরাতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত এমন খবরে দেশের অর্থনীতিবিদদের সংশয় বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা অতীতে যেভাবে জিডিপির হিসাব করি এবারও সেভাবেই করেছি। নতুন কোনো প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়নি। আমাদের হিসাব ঠিক আছে। সবসময় সবকিছু নিয়ে সন্দেহ করার দরকার নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মহলে সোচ্চার আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক কোনো আপত্তি করেনি। আমাদের সঙ্গে একমত পোষণ করেছে। চারদিকে তাকালে বুঝতে পারবেন দেশের অর্থনীতি কতটা শক্তিশালী হয়েছে।’