বিক্রমাসিংহে নতুন প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

অর্থনৈতিক সংকট ঘিরে সহিংস বিক্ষোভে টালমাটাল শ্রীলঙ্কায় নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন রনিল বিক্রমাসিংহে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে তাকে শপথ পড়িয়েছেন বলে জানিয়েছে শ্রীলঙ্কাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি মিরর।

প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে শপথের পর কলম্বোর ওয়ালুকরমা মন্দিরে আশীর্বাদ নিতে যান রনিল বিক্রমাসিংহে। শ্রীলঙ্কার ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টির (ইউএনপি) প্রধান ৭৩ বছর বয়সী রনিল আগেও পাঁচবার দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। যদিও তিনি কখনো মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি।

ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে মুখে পড়া শ্রীলঙ্কায় মাসখানেকের বেশি সময় সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলছে। গত সোমবার সরকার সমর্থকদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে অন্তত নয়জন নিহত এবং দেশজুড়ে জ্বালাও-পোড়াওয়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়েন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়ার বড় ভাই মাহিন্দা রাজাপাকসে। জনরোষের মুখে কলম্বোর প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন থেকে সেনা পাহারায় পালিয়ে একটি নৌঘাঁটিতে অবস্থান নেন তিনি।

এরপর বিক্ষোভ দমনে দেশজুড়ে কারফিউ জারির পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও পুলিশকে গুলি চালানোর ক্ষমতা দেওয়া হলেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। প্রেসিডেন্ট গোতাবায়ার পদত্যাগ দাবিতে গতকালও বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ হয়েছে।

দেশটির প্রধান বিরোধী দল সমাজি জনা বালাভেগায়া (এসজেবি) অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব নিতে রাজি হলেও সেজন্য প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের শর্ত দিয়েছিল। ফলে বিকল্প হিসেবে গত বুধবার সন্ধ্যায় রনিল বিক্রমাসিংহের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন গোতাবায়া। পরে জাতির উদ্দেশে ভাষণে চলতি সপ্তাহের মধ্যে নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা নিয়োগের ঘোষণা দেন তিনি।

বিবিসি বলছে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেও রনিল বিক্রমাসিংহে শ্রীলঙ্কার রাজনৈতিক পরিস্থিতি শান্ত করতে পারবেন কি-না তা বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। কারণ, প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ ছাড়া জাতীয় ঐক্যের সরকারে যোগ না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিরোধী দলগুলো।

করোনার ধাক্কার পাশাপাশি সরকারের কিছু ভুল সিদ্ধান্তে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক দুর্দশার মুখে পড়ে শ্রীলঙ্কা। কয়েক মাস ধরে খাবার, জ্বালানি ও ওষুধের তীব্র সংকটে পড়েছে দেশটি। ব্যাপকভাবে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, চলছে বিদ্যুৎ-বিভ্রাট। ঋণের চাপ আর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকটে পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।

ছেলেসহ মাহিন্দার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা : শ্রীলঙ্কার সদ্য পদত্যাগী প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে, তার ছেলে নামাল রাজাপাকসেসহ ১৫ সহযোগীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে গতকাল তাদের ওপর এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে এএফপি।

কলম্বো ছাড়ছেন শঙ্কিতরা : গত শুক্রবার থেকে শ্রীলঙ্কায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। বিক্ষোভ-সংঘাত দমাতে দেওয়া হয় অনির্দিষ্টকালের কারফিউ। তবে গতকাল অনির্দিষ্টকালের কারফিউ কয়েক ঘণ্টার জন্য তুলে নেওয়া হলে অসংখ্য মানুষ শ্রীলঙ্কার বাণিজ্যিক রাজধানী কলম্বো ছাড়া শুরু করেন।

রয়টার্স বলছে, গতকাল সকাল ৭টায় কারফিউ তুলে নেওয়া হয়। বেলা ২টায় ফের কারফিউ জারি হয়। সকালে কারফিউ তোলার পরই শহর ছাড়া মানুষের ঢল নামে বাসস্টেশনে। বেলা গড়াতে গড়াতে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। মূলত সহিংসতা থেকে বাঁচতে রাজধানী কলম্বোর বাসিন্দারা তাদের গ্রাম বা নিজ শহরে ছুটতে শুরু করেছেন।