যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোতে যোগ দিতে ফিনল্যান্ডের অবিলম্বে আবেদন করা উচিত বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট সাউলি নিনিস্তো ও প্রধানমন্ত্রী সান্না মারিন। গতকাল বৃহস্পতিবার তাদের এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা ভারসাম্যে একটি বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস মিলল বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ফিনল্যান্ডের এ ঘোষণার পর কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে রাশিয়া। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, ন্যাটোতে ফিনল্যান্ডের যোগদানের সিদ্ধান্ত রাশিয়ার জন্য স্পষ্ট হুমকি। সামরিক এ জোটের সম্প্রসারণ ইউরোপ বা বিশ্বকে স্থিতিশীল করবে না। ফিনল্যান্ডের অবন্ধুসুলভ আচরণ অনুতাপের এবং তাদের বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
রাশিয়ার সঙ্গে ১ হাজার ৩০০ কিলোমিটার সীমান্ত থাকা ফিনল্যান্ড তার পূর্বাঞ্চলীয় বৃহৎ প্রতিবেশীর সঙ্গে আগেও কয়েক দফা যুদ্ধে জড়িয়েছিল; রাশিয়া ২০১৪ সালে ক্রিমিয়ার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে হেলসিঙ্কির সঙ্গে ন্যাটোর দহরম-মহরম বাড়তে দেখা যায়। তবে চলতি বছর রাশিয়া ইউক্রেনে অভিযান চালানোর আগ পর্যন্ত ফিনল্যান্ডকে মস্কোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার স্বার্থে ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার ইচ্ছার কথা বলতে শোনা যায়নি।
যৌথ বিবৃতিতে নিনিস্তো ও মারিন বলেন, ‘অবিলম্বে ফিনল্যান্ডের ন্যাটো সদস্য পদের জন্য আবেদন করা উচিত। এটা করার জন্য জাতীয়ভাবে যা যা পদক্ষেপ নেওয়া দরকার দ্রুতগতিতে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তা করার ব্যাপারে আশাবাদী আমরা।’
ফিনল্যান্ডের মতো সুইডেনও আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে তাদের আগ্রহ প্রকাশ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশ দুটি আবেদন করলে দ্রুত সদস্য পদ দেওয়ার বিষয়ে ন্যাটো মিত্ররাও আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।
ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে গতকাল এক বিবৃতিতে ন্যাটো মহাসচিব জেন্স স্টলটেনবার্গ বলেছেন, এতে করে ন্যাটো জোট শক্তিশালী হবে। দেশটির যোগদানের প্রক্রিয়া মসৃণ ও দ্রুত হবে। অন্যদিকে ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট নিনিস্তোকে ফোন করে প্রশংসা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। পরে এক টুইট করে তিনি বলেছেন, ‘ইউক্রেনকে ইউরোপে একীকরণ নিয়েও আমাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।’
বিস্তৃত নরডিক অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে নরওয়ে, ডেনমার্ক এবং বাল্টিক তিন দেশ আগে থেকেই ন্যাটোর সদস্য; এর সঙ্গে ফিনল্যান্ড যুক্ত হলে তা স্বভাবতই মস্কোকে আরও ক্রুদ্ধ করবে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের। রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরেই ন্যাটোর বিস্তৃতিকে তার নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি অ্যাখ্যা দিয়ে আসছে। এই কারণকে উদ্ধৃত করেই রুশ প্রেসিডেন্ট ভøামিদির পুতিন গত ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে অভিযান শুরু করেন।