শতাধিক কৃষ্ণচূড়ায় রঙিন গোয়ালন্দ রেলস্টেশন

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ শহর এখন কৃষ্ণচূড়ার রঙে রঙিন। বিশেষ করে গোয়ালন্দ রেলস্টেশন সংলগ্ন রেললাইনের পাশে প্রায় শতাধিক গাছে শোভা পাচ্ছে কৃষ্ণচূড়া। গাছগুলো রোপণ করেছে স্থানীয় কিছু শিক্ষিত ও সৌন্দর্যপ্রেমী যুবক। তাদের রয়েছে একটি সামাজিক সংগঠন যার নাম ‘একজ জাগরণে’।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় ১১ বছর আগে রেললাইনের রাস্তার দু’পাশসহ গোয়ালন্দ উপজেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বাজার এলাকায় রোপণ করা হয় অন্তত এক হাজারেরও বেশি কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা। আজ সে সব চারা বড় গাছে রূপান্তরিত হয়ে, শোভা ও সৌন্দর্য বাড়াচ্ছে এলাকার। সংগঠনের সদস্যরা নিজেদের অর্থ ও শ্রমে চারাগুলো রোপণসহ পরিচর্যা করে আসছেন। কয়েক বছর আগে একবার গাছগুলো কেটে ফেলার উদ্যোগ নেয় রেলওয়ে। সে সময় একজের তরুণরা রেললাইনে রেল অবরোধ করেন। আসেন রেল কর্মকর্তারা। এতে সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ। রক্ষা পায় সারি সারি কৃষ্ণচূড়া গাছ।

সরেজমিন গোয়ালন্দ রেলস্টেশন ও তার পাশে অবস্থিত সড়কে দেখা যায় কৃষ্ণচূড়া গাছে ব্যাপক ফুল ফুটেছে এ বছর। এলাকার বিভিন্ন জায়গা থেকে অনেকে এসে গাছের নিচে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। অনেককে দেখা গেছে পরিবার নিয়ে সৌন্দর্য উপভোগ করতে। কেউ আবার নিচে পড়ে যাওয়া ফুল কুড়িয়ে নিচ্ছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১০ -১১ বছর আগে দেখেছিলাম গাছগুলো রোপণ করতে। আমরা ভেবেছিলাম, হয়তো রেলের পাশে বলে গাছগুলো কাটা পড়বে, একবার কাটার চেষ্টা চালালেও তা হয়নি। গাছগুলো যখন আগে ছিল না, তখন রাস্তা দিয়ে দিনের বেলায় প্রচণ্ড রোদে হাঁটা কষ্ট হয়ে যেত। গাছগুলোর জন্য এখন আমাদের চলাচল অনেক সহজ হয়েছে। আমরা এখন গাছের নিচে বসতে পারি। বিকেলের দিকে এসব গাছের নিচে বসে আড্ডা দিই। এ ছাড়া এলাকার হাট এসব গাছের নিচেই বসে।

একজ সদস্য শামীম আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, গাছগুলো যখন আমরা রেললাইনের পাশ দিয়ে রোপণ করি তখন আমাদের উন্মাদ, পাগলসহ আরো অনেক কিছু বলেছে অনেকেই। কিন্তু আমরা এসব কানে নিইনি। আমরা আমাদের কাজ করে গিয়েছি। ১১ বছর পর যখন গাছগুলো বড় হয়েছে ও তাতে  ফুল ফুটছে, তখন কত খুশি লাগে তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। তবে আবার কষ্টও লাগে যখন দেখি কিছু লোক তাদের বিভিন্ন ব্যানার-পোস্টার-পেরেক ঠুকে গাছে ঝোলায়।

একজ জাগরণের আহ্বায়ক সুজন সরওয়ার দেশ রূপান্তরকে বলেন, এলাকার সৌন্দর্য ও পরিবেশের কথা বিবেচনা করে আমরা প্রতি বছর গাছ রোপণ করে থাকি। এ পর্যন্ত আমরা কয়েক হাজার গাছ রোপণ করেছি। কৃষ্ণচূড়া ও হাজারখানেক তালগাছ বিভিন্ন স্থানে রোপণ করা হয়েছে। আমরা সব সময় প্রাণ ও প্রকৃতি নিয়ে কাজ করি। আমরা নিজ অর্থায়নে এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকি।