নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আপত্তির মুখে সন্তান নেওয়ায় জন্মের পর নবজাতককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর পরিবারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গতকাল রবিবার ফতুল্লা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন নবজাতকের নানা ফকির চাঁন শেখ।
অভিযোগে বলা হয়েছে, চার বছর আগে ফতুল্লা থানার রুশেন হাউজিংয়ের মৃত শাহ আলমের ছেলে শামীমের (৩০) সঙ্গে মেয়ে মুক্তা আক্তারকে (২৩) বিয়ে দেন ফকির চাঁন। বিয়ের পর থেকে শাশুড়ি নাসিমা বেগম, ভাসুর শাহিনসহ স্বামীর বাড়ির লোকজন সন্তান না নেওয়ার জন্য বলে আসছিলেন। তাদের আপত্তি উপেক্ষা করে মুক্তা গর্ভধারণ করেন। গত মঙ্গলবার রাত ৯টায় নারায়ণগঞ্জ শহরের মেডি হোপ ক্লিনিকে তার ছেলেসন্তান হয়। তিন দিন পর ক্লিনিকের ছাড়পত্র নিয়ে মা-সন্তান বাসায় যায়। গতকাল ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মুক্তা ফোন করে বাবাকে জানান, তার ছেলে হঠাৎ অসুস্থ হওয়ায় মাতুয়াইল শিশু হাসপাতালে নিয়ে গেছে পরিবারের লোকজন।
ফকির চাঁনের অভিযোগ, হাসপাতালে গিয়ে কাউকে পাইনি। জানতে পারি নাতি মারা গেছে এবং বাসায় নিয়ে তার দাফনও করা হয়েছে। পরে বেয়াইবাড়ি গিয়ে বিষয়টি জানতে চাইলে তারা সন্তোষজনক উত্তর না দিয়ে আমাকে মারধর করে তাড়িয়ে দেয়। অসুস্থ মেয়েকেও দেখতে দেয়নি। আমার ধারণা, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী অভিযুক্তরা নবজাতককে কৌশলে হত্যা করেছে।’
ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক আরিফ পাঠান জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করছেন তারা। অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলায় বাড়ির পাশ থেকে সায়েদা আক্তার (৫) নামে কন্যাশিশুর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল সকাল সাড়ে ৬টার দিকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। সায়েদা আক্তার উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের কুতুবপুর গ্রামের মো. দিলু মিয়ার মেয়ে। লাশের পিঠ থেকে মাথা পর্যন্ত ধারালো অস্ত্রের অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
ইউপি চেয়ারম্যান শামীম মোড়ল জানান, এ হত্যাকাণ্ডের জন্য দিলু মিয়ার পরিবার জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ থাকায় প্রতিবেশী মাওলানা ইউসুফ ও মলু হোসেনের ওপর দোষ চাপাচ্ছে। কিন্তু প্রতিপক্ষের দাবি, নিজেরাই হত্যাকাণ্ড চালিয়ে ফাঁসানোর জন্য এমন বক্তব্য দিচ্ছে।
খবর পেয়ে নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. হারুন-অর-রশিদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, হত্যারহস্য উদঘাটনে তারা চেষ্টা করছেন।
খালিয়াজুরী থানার ওসি মো. মুজিবুর রহমান জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে জানান তিনি।